মূল সংবাদে যান
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

ফ্যাসিবাদ কোনো দলের নাম নয়, এটি সমাজের ভাইরাস: জামায়াত আমির

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
ফ্যাসিবাদ কোনো দলের নাম নয়, এটি সমাজের ভাইরাস: জামায়াত আমির

ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম নয়, বরং এটি একটি ভাইরাস, যার লক্ষণ সমাজের সর্বক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশে বারবার বিপ্লব ফিরে আসবে। যারা জনগণের মনের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হবেন, তাদের পরিণতিও ৭ নভেম্বরের মতো হতে পারে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য শুনতে শুনতেই তার জীবনের ৫৫ বছর কেটে গেছে। কিন্তু এ দিবস থেকে রাজনীতিবিদদের যে শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, তারা সেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহিদের বিদ্রোহের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ মুজিবুর রহমান দেশের সব ইসলামী সংগঠন নিষিদ্ধ করেছিলেন।

অথচ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এসব সংগঠন সক্রিয় ছিল এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। নির্বাচনের আগে শেখ মুজিব বারবার বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো কাজ করবে না। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর ইসলামী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা হয়।

তিনি বলেন, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পরও অল্প সময়ের মধ্যে শেখ মুজিব জাতির আস্থা হারিয়ে ফেলেন। দেশে সেনাবাহিনী, পুলিশ, গণমাধ্যম ও আনসার বাহিনী থাকা সত্ত্বেও নিজের ও দলের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে নিজেদের নিরাপত্তায় রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়।

সেনাবাহিনীকে উপেক্ষা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে রক্ষীবাহিনীর হাতে সীমাহীন ক্ষমতা ও ভারী অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল।

রক্ষীবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাহিনীটিকে এমন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল যে তারা ইচ্ছা করলেই কাউকে হত্যা করতে পারত, কোনো জবাবদিহি করতে হতো না। কোনো নারীকে ঘর থেকে তুলে আনলেও তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হতো না।

তার দাবি, এভাবে ৩৪ হাজার মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কারও অবদানকে ছোট করে দেখার পক্ষে নই। স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে মারামারিতে আমরা নাই। যিনি ঘোষণা দিয়েছেন সেটা শুনেছি। আবার স্বাধীনতার পতাকা একজন তরুণ নেতা সেদিন উড়িয়েছিলেন। এটা এখন আর আলোচনায় আসে না।

আসম আব্দুর রব, তার নামটি কিন্তু কেউ বলে না। বললে নিজের ক্রেডিট চলে যায়। মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী। তার নামটা কি কেউ এখন মুখে নেয়? না এটা নিলে নিজের এবং নিজের দলের কোনো কৃতিত্ব থাকে না। এই সকল হীনমন্যতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যার যেখানে অবদান তার স্বীকৃতি দিতে হবে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ শিকদারকে হত্যার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ‘কোথায় সে?’ একজন মানুষকে বিনা বিচারে হত্যার পর প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য বিচারব্যবস্থার প্রতি অবজ্ঞা এবং অবিচারকে বৈধতা দেওয়ারই শামিল ছিল।

শেখ মুজিবের শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ‘এক নেতার এক দেশ’ ধরনের ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। তার মানসিকতা ছিল, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে তার অঙ্গুলি হেলনেই সূর্য উঠবে এবং অস্ত যাবে। অথচ সূর্য কারও অঙ্গুলি হেলনের অপেক্ষা করে না, নির্দিষ্ট সময়েই উদিত হয়।

তৎকালীন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশের সম্পদ লুটপাট করে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। জনগণের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রীও যথাযথভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য আট কোটি কম্বল আসার কথা থাকলেও সাধারণ মানুষ কম্বল পায়নি।

এ নিয়ে শেখ মুজিব নিজেও একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, বিভিন্ন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের নেতারা সোনার খনি পেয়েছেন, আর তিনি পেয়েছেন চোরের খনি।

তিনি আরও বলেন, লুটপাট, দুর্নীতি, মানুষের সম্মানহানি, বিনা বিচারে হত্যা এবং একদলীয় শাসনের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছিল। ক্ষমতাসীনরা আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন।

বাকশালের সংবিধানে শেখ মুজিব জীবিত থাকা পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রধান থাকার বিধান রাখা হয়েছিল। এমনকি অসুস্থ বা অক্ষম হলেও দায়িত্বে থাকার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এটিকে জাতির সঙ্গে উপহাস এবং গণতন্ত্র নিয়ে তামাশা বলে অভিহিত করেন তিনি। 

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ৫ লাখ, আহতদের ১ লাখ টাকা সহায়তা

পরের সংবাদ

পুলিশের পাশে যুবলীগের মিছিল, ৯ দিনে গ্রেপ্তার ১৭

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।

স্বাস্থ্য

সব সংবাদ