মূল সংবাদে যান
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলায় নিহত ৪৭

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের হামলায় নিহত ৪৭

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে কেনসকফ এলাকায় সশস্ত্র গ্যাংয়ের রাতভর হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাবে, এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার রাতে চালানো এই হামলার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে স্থানীয় পুলিশ প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোর ওপর অবস্থিত পাহাড়ি এলাকা কেনসকফ। এখানে গত বছর থেকেই গ্যাং সহিংসতা ঘটছে। গত বছরের শুরুতে মাত্র দুই মাসে সেখানে ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০০টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া বা ধ্বংস করা হয়। ওই সময় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।

এরপরও সেখানে প্রায় এক ডজন হামলা হয়েছে। এসব হামলায় ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ ও গবাদিপশু লুটের মতো ঘটনাও ঘটে।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গ্যাং সদস্যরা হামলা শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনাস্থলের কাছেই একটি পুলিশ স্টেশন থাকলেও মানুষকে রক্ষা করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে।

হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হামলাকারীরা কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। নিহতদের মধ্যে গ্যাং সদস্য ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হাইতি সরকার হামলাটিকে ভয়াবহ ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করে নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার বারবার নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

হাইতিতে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী সশস্ত্র গ্যাংগুলো রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। বিদেশি সহায়তায় দেশটির দুর্বল পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চললেও গ্যাং সহিংসতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

এই হামলার কারণে হাইতিতে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা নির্বাচন নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় এক দশক পর আগামী ডিসেম্বরে দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে সেই নির্বাচনও আবার পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গ্যাং দমনে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি বাহিনীও কাজ করছে। আগামী শরতে এই বাহিনীর সদস্যসংখ্যা সাড়ে ৫ হাজারের বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কেনসকফে সাম্প্রতিক হামলার সময় এই বাহিনী নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, মনোনয়ন পেলেন ১৫২১ জন

পরের সংবাদ

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।