মূল সংবাদে যান
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কোনো পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কোনো পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবিঃ সংগৃহীত

অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কোনো অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কেউ বাধা দিলে বা আসামিকে সহায়তা করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা অপরাধীদের দমনের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেব। আর পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে কেউ যদি আসামিকে সহায়তা দিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে আমরা যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেব, যদি আপনারা তথ্য দেন। আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের অপারেশন ক্লিন হার্ট করার মতো কোনো পরিকল্পনা নেই।’

সাইবার অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে জানিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন পাল্টেছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় সাইবার স্পেস ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, স্ক্যাম হচ্ছে।

এমনকি স্টক মার্কেট ম্যানিপুলেশনও এই সাইবার স্পেসের মাধ্যমে হচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন করার জন্য ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই।”

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল অপরাধ বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে উদ্বোধন করা সিআইডির সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এবং কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কয়কা) সহযোগিতা করেছে। দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আজকের এই ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব সিআইডির নেতৃত্বে থাকবে। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা সবসময় থাকবে।

যেহেতু সবই একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে, তাই বাংলাদেশে আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে আমরা খুব দ্রুত এই ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করব।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা পরিকল্পনা করেছি, পুলিশ সাইবার ইউনিটের নেতৃত্বে কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল বিশ্লেষণ বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেব। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের সুবিধা প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

মন্ত্রী বলেন, “জুডিশিয়াল সিস্টেমে মানুষের বিচারপ্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন ধরনের বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয়। এসব ক্ষেত্রে সাক্ষ্য-প্রমাণ লাগে এবং সেগুলোর সার্টিফিকেশন প্রয়োজন হয়।

যুগের ও সময়ের প্রয়োজনে অপরাধের ধরন পাল্টেছে। তাই আমাদের প্রয়োজনও মেটাতে হবে। আধুনিক ডিজিটাল জগতে যেসব অপরাধ হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ ও প্রতিরোধ করতে আমরা আধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা এবং অন্যান্য লজিস্টিক সরঞ্জামসহ প্রস্তুত হব।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমন করতে গিয়ে পুলিশ মাঝেমধ্যে হামলার শিকার হয়, যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আসামি গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া বা অপরাধীদের আশ্রয়-সহায়তা করার বিষয়ে তথ্য পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, অপারেশন ক্লিন হার্ট ছিল অপরাধ দমনে পরিচালিত একটি যৌথ অভিযান। ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর শুরু হওয়া এ অভিযান চলে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর), পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানে ৫০ হাজারের বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য অংশ নিয়েছিলেন এবং যৌথ বাহিনী ১১ হাজার ২৪৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছিল।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বেকার তৈরির কারখানা নয়: উপাচার্য

পরের সংবাদ

ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯২০

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।