নতুন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
রংপুর, রাজশাহী, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ্যতা এবং তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
কোথাও দলীয় নেতাদের স্বাক্ষর করা তালিকার সঙ্গে চূড়ান্ত নিয়োগের মিল পাওয়া গেছে, কোথাও একই পরিবারের সদস্যদের নাম, আবার কোথাও সার ডিলারের ব্যবসা ও গুদামের অস্তিত্ব নেই বলে অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত আবেদনকারীরা।
সংসদ সদস্যদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাদের সুপারিশ উপেক্ষা করে সচিবালয়ের একটি দালালচক্রের মাধ্যমে সুবিধা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ উপেক্ষা করে সচিবালয়ের একটি দালালচক্রের মাধ্যমে সুবিধা নিয়ে ডিলার তালিকার বেশিরভাগ নাম চূড়ান্ত করার অভিযোগ অনেক সংসদ সদস্যের।
উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডিলারদের তালিকার বেশিরভাগ নাম চূড়ান্ত করেছেন। অল্প কয়েকটি এলাকায় সংসদ সদস্যদের সুপারিশ রাখা হলেও বেশিরভাগ জায়গায় তা হয়নি।
বিগত ১৭ বছরে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই ডিলারশিপ পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন। দুয়েকটি এলাকায় সংসদ সদস্যদের ছেলেমেয়েসহ আত্মীয়-স্বজন ডিলার নিয়োগে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে- সার ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে কোথাও কয়েক লাখ, কোথাও ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, আবার কেউ অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব দিয়েছেন অভিযোগকারীদের ওপর।
তবে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সারের ডিলার নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। নিজ ফেসবুক পোস্টে সরকারি কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, 'কিসের রাজনৈতিক নেতাদের শুদ্ধি করবেন, সবার আগে প্রশাসনের লোকদের অপারেশন ক্লিন হার্ট চালানো দরকার।'
তার মতে, উপজেলা থেকে পাঠানো তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা আবেদনকারীকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকাদেরকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া লাইসেন্স নিয়ে।
সরিষা ইউনিয়নে এ রকম লাইসেন্স যখন আমাদের ত্যাগী লোকের বাইরে যায়, আর ফ্যাসিস্টের লোক, এই প্রকৃতির টাকা নিয়ে ঘোরা লোভী মানুষ যখন সবাইকে ডিঙিয়ে লাইসেন্স পায়, তখন উপজেলা এবং জেলার সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
আমার কাছে তার পক্ষে ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলার কারণ খুঁজে পাই। আমি সব জানি, এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাই না। কে কোথা থেকে কত পার্সেন্ট টাকা নেয় তা জানি। যতক্ষণ এর অফিসিয়াল উত্তর না পাব, ঈশ্বরগঞ্জে কেউ কোনো মনোনীত লোক সারের লাইসেন্স নিবে না।
আমাদের লোকেরা মামলা, হামলা খাবে আর আপনারা পয়সার বিনিময়ে সারের লাইসেন্স দিবেন, তা হবে না। আমরা নিজের টাকায় থানায় গাড়ি কিনে দিব, আর আপনারা ফ্যাসিস্টকে সাপোর্ট করবেন, তা হবে না।'
একই ধরনের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের ছাত্রদলের সহসভাপতি দুলাল আহমেদ। তিনি লিখেছেন, “ডিসি অফিসে কত টাকার বিনিময়ে আমার ১ নম্বরকে দ্বিতীয় করা হয়েছে।”