নভেম্বর-ডিসেম্বরে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষা থাকায় ওই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ দেখছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
লাখ লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য নির্বাচনের সময় কিছুটা পেছানোর চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত কোনো সরকারি চাপের কারণে নেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য বিষয় রয়েছে। এ সময়ে নির্বাচন করার সুযোগ তারা দেখছেন না। কারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এসব পরীক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। তাই এই সময়ে নির্বাচন করা কঠিন।
ইসি আশা করছে, ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ হলে বা জানুয়ারির দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে।
নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা হতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আগামী জানুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণার চিন্তা করছে কমিশন।
এর আগে ১২ নভেম্বর সম্ভাব্য নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কাজ করে।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিলাম। পরে দেখা গেল, ওই সময়ে নির্বাচন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, গত বছর বন্যার কারণে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার কিছু সময়সূচি পরিবর্তন হয়েছিল। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার আগে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আগামী বছরের শুরুতে রমজান, ঈদ, পূজা এবং এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
তিনি বলেছেন, ‘রমজান মাস, ঈদ, পূজা, এসএসসি পরীক্ষা, এইচএসসি পরীক্ষা- এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সব দিক বিবেচনা করে একটি উপযুক্ত সময় বের করার চেষ্টা করছি।’