মূল সংবাদে যান
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

যে ভোট দেয়নি তার জন্যও সরকার হতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
যে ভোট দেয়নি তার জন্যও সরকার হতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

রংপুর নগরীর ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়, যে ভোট দিয়েছে তারও সরকার হতে চায় আবার যে ভোট দেয়নি তার জন্যও সরকার হতে চায়।’

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে এবং দেশের সব এলাকার সমান উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশটি হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলছে, আমরা সবাই মিলে শান্তিতে বসবাস করছি।

আমরা চাই বিগত হাজার বছর ধরে যেমন আমরা প্রতিটি ধর্মের মানুষ এই দেশে শান্তিতে একসাথে বসবাস করেছি, আগামী হাজার বছরগুলোতেও যেন আমরা এক সঙ্গে বসবাস করতে পারি।’

সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ গড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রিয় ভাইবোনেরা, আগামী দিনে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব ধর্মমতের মানুষকে এক সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

নির্বাচনে সমর্থন দেওয়া-না দেওয়ার পার্থক্য না করে সবার জন্য কাজ করতে চাই। অর্থাৎ, আমরা সব এলাকা বা সব মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।

অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নের বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সব এলাকায় সমবণ্টনের মাধ্যমে সমানভাবে উন্নয়ন করতে চাই আমরা। রংপুর মহানগরের উন্নয়নের জন্য এরই মধ্যে একটি বৈঠকে ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না করার ওপরও গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অতীতের মতো এমন কোনো পরিস্থিতি যেন তৈরি না করি, যাতে করে জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সন্তানদের শিক্ষাক্ষেত্র, স্বাস্থ্য সুবিধা, জনগণের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি এগুলোতে কোনোভাবে ব্যাঘাত ঘটে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে জনগণ দেশে একটি স্থিতিশীলতা চায়, জনগণ চায় শান্তিতে থাকতে, জনগণ চায় নিরাপদে থাকতে এবং বর্তমান সরকার তার জন্যই কাজ করছে।’

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই। সর্বপরি আমরা দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যেভাবে প্রয়োজন সেভাবেই সবাই মিলে কাজ করব।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ। এই জনগণকে আমরা বর্তমান সরকার অতীতের মতন বর্তমানেও পাশে পেতে চাই।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমার এর পেছনে বোধহয় একটি হোস্টেলের মতো একটি স্ট্রাকচার আছে, যেখানে সনাতনী সম্প্রদায়ের যারা মানুষ আছে যারা অবস্থাপন্ন নয়, যাদের জন্য হয়তো গ্রামগঞ্জ থেকে এসে এখানে শহরে থাকা একটু কষ্টকর, তাদের জন্য এখানে বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা মন্ত্রীপরিষদ তৈরি করছে।’

নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করতে আরও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এরই মধ্যে সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছি এবং একই সাথে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে আমি নির্দেশনা দিয়েছি যে, পর্যায়ক্রমিকভাবে আগামী দুই বছরের মধ্যে যাতে এই কাজটা সম্পূর্ণ হয়।’

বক্তব্যের শেষে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে রংপুর নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পাশাপাশি গত পাঁচ দিন ধরে নগরের বিভিন্ন সড়কে পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও সংস্কারকাজ চলে।

রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক মেরামত করা হয়। নগরের ডিসির মোড় থেকে লালকুঠির মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়কও সংস্কার করা হয়।

তবে সফরের আগে দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করায় এর মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রংপুরের কর্মসূচি শেষে একই দিনে রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচি ছিল প্রধানমন্ত্রীর।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

প্রতিমা দর্শনে গিয়ে ভ্যান-নসিমনের সংঘর্ষে নিহত ২

পরের সংবাদ

ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।