মূল সংবাদে যান
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১০০ বছর পর আবারও ভাঙছে যুক্তরাজ্য?

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
১০০ বছর পর আবারও ভাঙছে যুক্তরাজ্য?

দ্বীপটির নাম গ্রেট ব্রিটেন। এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ও ইউরোপের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে মহাদেশটির মূল ভূখণ্ড ঘেঁষা সবচেয়ে বড় দ্বীপ। ‘গ্রেট ব্রিটেন’ দ্বীপটির ভৌগোলিক নাম। এই এক দ্বীপেই ৩ ‘দেশ’- ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস।

গ্রেট ব্রিটেনের পাশে আরও একটি বড় দ্বীপ আছে। নাম আয়ারল্যান্ড। এই দুই বড় দ্বীপের আশেপাশে আছে অসংখ্য মাঝারি ও ছোট দ্বীপ। এসব বড়-মাঝারি-ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত ব্রিটিশ আইলস বা ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ।

গ্রেট ব্রিটেন দ্বীপে ইংল্যান্ডের অধিবাসী ইংলিশ, স্কটল্যান্ডের অধিবাসী স্কটিশ ও ওয়েলসের অধিবাসী ওয়েলশ নামে পরিচিত। শত শত বছর ধরে এক দ্বীপে বসবাস করলেও তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি ভিন্ন এমনকি, আছে সংঘাতও।

গ্রেট ব্রিটেনকে সংক্ষেপে ব্রিটেন বলা হয়। এই দ্বীপের ভেতরে থাকা এই ৩ ‘দেশ’ তথা- ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে গড়ে তোলা হয়েছে ‘ইউনাইটেড কিংডম অব গ্রেট ব্রিটেন’, সংক্ষেপে ‘ইউকে’ বা ‘যুক্তরাজ্য’।

গ্রেট ব্রিটেন দ্বীপটির রাজনৈতিক নাম ‘যুক্তরাজ্য’। অর্থাৎ, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসকে রাজনৈতিকভাবে একসঙ্গে বোঝাতে ইউনাইটেড কিংডম অব গ্রেট ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্য বলা হয়।

১৮০১ সালে ব্রিটিশ রাজার প্রভাব বলয়ে থাকা আয়ারল্যান্ড দ্বীপ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে জোট বাঁধে। তখন দুই দ্বীপ মিলে রাজনৈতিকভাবে নাম নেয়—ইউনাইটেড কিংডম অব গ্রেট ব্রিটেন অ্যান্ড আয়ারল্যান্ড।

বর্তমানে আয়ারল্যান্ড দ্বীপ রাজনৈতিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত। একটি স্বাধীন আইরিশ প্রজাতন্ত্র ও অন্যটি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত উত্তর আয়ারল্যান্ড।

১৯২২ সালে আয়ারল্যান্ড দ্বীপটির বড় অংশ স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। নাম নেয় আইরিশ প্রজাতন্ত্র। দ্বীপটির ছোট অংশ অর্থাৎ, উত্তর আয়ারল্যান্ড রাজনৈতিকভাবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থেকে যায়।

উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকায় রাজনৈতিকভাবে এটি নাম নিয়েছে- ইউনাইটেড কিংডম অব গ্রেট ব্রিটেন অ্যান্ড নর্থ আয়ারল্যান্ড। সংক্ষেপে এই ৪ জাতির রাজনৈতিক ‘জোট’কেও ‘ইউনাইটেড কিংডম’ বা ‘ইউকে’ বা যুক্তরাজ্য বলা হয়।

এবার একযোগে যুক্তরাজ্যের অংশীদার স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার বা ‘মুখ্যমন্ত্রী’রা নিজ নিজ অঞ্চলের স্বাধীনতার দাবি তুলেছেন। তারা সমান অধিকার নিয়ে একে অপরের বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে পথ চলার আশা প্রকাশ করেছেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এই তিন অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী নেতারা নিজ নিজ অঞ্চলের স্বাধীনতার জন্য এক সঙ্গে কাজ করতে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেন।

তারা সদর্পে ঘোষণা দেন- লন্ডনের আধিপত্যের দিন শেষ হওয়ার পথে। এসময় তারা ‘অসম্ভব’কে সম্ভব করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।

এই নেতারা চান না, কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তাদের ওপর খবরদারি করুক। তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়তে চান।

সেই সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নামকে আহ্বান জানানো হয়েছে ‘সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়াটিকে সহজ করার’ জন্য।

স্মারকটিতে সই করেছেন স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার ও জাতীয়তাবাদী স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা জন রামসে সুইনি, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার ও জাতীয়তাবাদী প্লাইড কাম্‌রি দলের নেতা রিন অ্যাপ ইয়োরওয়ার্থ, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার ও জাতীয়তাবাদী শিন ফেইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল ও’নিল এবং শিন ফেইনের প্রেসিডেন্ট ম্যারি ল্যু ম্যাকডোনাল্ড।
তবে তারা দলীয়ভাবে এই সমঝোতা স্মারক সই করেছিলেন। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নয়।

২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়া নিয়ে অসন্তুষ্ট স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ড। এই অঞ্চল দুটির বাসিন্দারা মনে করছেন ইংল্যান্ডের ইংলিশ জাতীয়তাবাদীরা অন্যদের অবজ্ঞা করছে।

কেননা, গণভোটে স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের অধিবাসীরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

ইংল্যান্ড সবচেয়ে বড় অঞ্চল ও সম্পদশালী হওয়ায় ইংলিশ জাতীয়তাবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে ‘বিমাতাসুলভ’ আচরণের অভিযোগ উঠছে। ‘বঞ্চনার’ কারণে অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট অঞ্চলগুলোয় অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করছেন অনেকে।

স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্ট, ওয়েলসের সেনেথ (সিনেট) ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের অ্যাসেম্বলিতে স্বাধীনতাকামী দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও পূর্ণ স্বাধীনতার দাবির পেছনে জনগণের সমর্থন ঠিক কতটা?—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোয় জাতীয়তাবাদের ঢেউ ওঠায় সেই প্রভাব স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। আবার কারও মতে, ব্রেক্সিটের কুপ্রভাব এক দশক পর পুরো যুক্তরাজ্যে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।

এরইমধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণের প্রতি সমর্থন দিয়ে যেন ‘আগুনে ঘি’ ঢেলেছেন।

অর্থাৎ, স্বাধীন আইরিশ প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অংশ উত্তর আয়ারল্যান্ডের সম্ভাব্য একত্রীকরণকে ‘স্বাগত’ জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি। অনেক বিশ্লেষক ট্রাম্পের এমন মনোভাবের ভেতর ‘রাজনীতি’ দেখছেন।

তাদের মতে, ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড একত্রীকরণ মন্তব্য আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেখানে বসবাসকারী প্রায় ৩ কোটি আইরিশ জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এক সময় বলা হতো ‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যায় না’। এমন কথা বলা হতো, পৃথিবীর পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তারকে বোঝাতে।

অর্থাৎ, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের এক অংশে রাত নেমে এলে অন্য অংশে দিনের আলো ফুটে উঠতো। সেই সাম্রাজ্য থেকে ৫০টির বেশি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ায় সেসব অতীত হয়েছে বহু বছর আগেই। কিন্তু, এবার খাস যুক্তরাজ্যে আবারও উঠেছে ভাঙনের দাবি।

গ্রেট ব্রিটেন দ্বীপে থাকা স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস এবং আয়ারল্যান্ড দ্বীপে থাকা উত্তর আয়ারল্যান্ড এখন নিজেদের আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। এখন এসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এক যোগে বলেছেন, ‘স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়’?

ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এক স্মারক সমঝোতায় সইয়ের পর সংবাদ সম্মেলন করে রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরা বলেছেন যে তাদের বাসিন্দারা আর লন্ডনের অধীনে থাকতে চান না। তাদের ভবিষ্যৎ তারা নিজেরাই গড়তে চান।

মুখ্যমন্ত্রীরা আশা করছেন, যুক্তরাজ্যের সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে। কেননা, রাজ্যগুলোর স্বাধীন হওয়ার অধিকার আছে।

তারা আরও বলেছেন, গণতন্ত্রের পথে বাধা দেওয়ার অধিকার ব্রিটিশ সরকারের নেই। অন্যের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার অধিকারও ব্রিটিশ সরকার অস্বীকার করতে পারে না।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ওয়েলস অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মে মাসের নির্বাচনে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে জাতীয়তাবাদী দলগুলো বিজয়ী হওয়ায় তারা এখন দাবি করছেন—দুই দ্বীপের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পালটে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ৬২৪

পরের সংবাদ

ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতা শাহরুখ খান

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।