কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে বৃহস্পতিবার পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। শুরুর দিনই জাহাজের যাত্রীসংখ্যা নিয়ে গরমিল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অব্যবস্থাপনারও অভিযোগ উঠেছে। বাধ্যতামূলক হলেও যাত্রী গণনায় কিউআর কোড স্ক্যান করা হয়নি।
পর্যটকদের অভিযোগ, জাহাজের টিকিটের দাম বাড়তি। তাদের হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় নথির ঘাটতির কারণে এতদিন কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি পায়নি।
প্রায় ছয় ঘণ্টার উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে গতকাল বেলা পৌনে ২টার দিকে সেন্টমার্টিন পৌঁছায় ৮৫০ জনের ধারণক্ষমতার এমভি বারো আউলিয়া। সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে যাত্রা শুরু হয়।
জাহাজটিতে কতজন পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছেন, তার সঠিক তথ্য দিতে পারেনি সরকারি কোনো দপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের হিসাবে, ৮৩৭ জন পর্যটক গেছেন। বিআইডব্লিউটিএর হিসাবে এ সংখ্যা ৮৩০। ট্যুরিজম বোর্ডের হিসাবে ৮৮৬ জন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল থেকে নেওয়া ট্রাভেল পাসের কিউআর কোড স্ক্যান করে সেন্টমার্টিন যাওয়ার কথা। তবে ওঠার সময় কিউআর কোড স্ক্যান করা হয়নি।
তবে প্রথম দিনের যাত্রায় আনন্দের পাশাপাশি ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন কয়েকজন পর্যটক। এবারের মতো হয়রানির শিকার আগে কখনও হতে হয়নি। অনলাইনে টিকিট কাটার পরও যদি ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ পর্যটকের কী অবস্থা হবে?
এবার সর্বনিম্ন টিকিটের দাম চার হাজার ২০০ টাকা। আগে ছিল তিন হাজার ৫০০ টাকা। সবকিছুর দাম শুধু বাড়ছেই, কমছে না।
চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের জন্য বারো আউলিয়াসহ তিনটি জাহাজ অনুমতি পেয়েছে। অন্য দুটি হলো- এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা দুই হাজার ২৯৮ জন।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ সময় দ্বীপে ভ্রমণের পাশাপাশি তিন হাজার ৫০০ পর্যটকের রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে।
দ্বীপে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
দ্বীপে পর্যটকদের যা মানতে হবে
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্বীপে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি ও বারবিকিউ পার্টি নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্ধারিত জায়গার বাইরে আবর্জনা (পানির খালি বোতল, প্লাস্টিকের প্যাকেট ইত্যাদি) ফেলা যাবে না।