হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি জানান, শুরুতে এই টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০টি উড়োজাহাজ চলাচল করবে। টার্মিনালটি পর্যায়ক্রমে পুরোপুরি কার্যকর হবে। একই সঙ্গে যন্ত্রপাতির সমন্বয় সম্পন্ন করা এবং এর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ব্যবস্থা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, ধীরে ধীরে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
মন্ত্রী বলেন, এর আগে টার্মিনালটির সফট ওপেনিং করা হয়েছিল। তবে ভবনের ভেতরের যন্ত্রপাতি সমন্বয় করা না হওয়ায় এর কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। ‘শুধু ভবন উদ্বোধন করা হয়েছিল।
কিন্তু ভেতরের যন্ত্রপাতি সমন্বয় করা হয়নি এবং এটিকে চালু করার যথাযথ উদ্যোগও নেওয়া হয়নি’ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছে।
মূল চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৫ শতাংশ রাজস্ব পাওয়ার কথা ছিল, আর জাপানি অংশীদাররা পেত ৮৫ শতাংশ। আলোচনার পর বাংলাদেশের অংশ বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তাদের নিজেদের আয় থেকে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। ডিসেম্বরে আরও ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।’
‘তৃতীয় টার্মিনাল চালু না থাকায় অন্য দুই টার্মিনালের আয় ও এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে পাওয়া রাজস্ব দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে আর্থিক চাপের মধ্যে আছে বেবিচক’।
মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হলে এই টার্মিনালের মাধ্যমে প্রায় ২০০ ফ্লাইটের ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে। যাত্রীদের লাগেজের জন্য অপেক্ষার সময় কমাতে একটি প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রীরা ১৮ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে তাদের লাগেজ পাবেন। নতুন টার্মিনালের অপারেটরকে ১৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ব্যবস্থাপনার কাজ শেষ করতে হবে।
তিনি বলেন, টার্মিনালের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সমন্বয়কাজের ৫৭ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই মুহূর্তে আমদানি করা যন্ত্রপাতির পরীক্ষা ও ট্রায়াল চলছে।
তিনি বলেন, ‘একটি বিমানবন্দর একটি দেশের আয়না। মানুষ যখন এখানে আসবে, তখন তাদের বোঝা উচিত বাংলাদেশ কেমন একটি দেশ।’
‘সরকার বাংলাদেশ বিমানের বহর বাড়াতে চায়। প্রায় ২০ কোটি মানুষের একটি দেশের জন্য শক্তিশালী জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ’, যোগ করেন তিনি।