মূল সংবাদে যান
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বমঞ্চে সাতক্ষীরার প্রজ্ঞা: মেধা ও মাতৃত্বের যৌথ জয়ে লাল-সবুজের নতুন ইতিহাস

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
বিশ্বমঞ্চে সাতক্ষীরার প্রজ্ঞা: মেধা ও মাতৃত্বের যৌথ জয়ে লাল-সবুজের নতুন ইতিহাস

অধ্যাবসায়, প্রজ্ঞা আর পারিবারিক মূল্যবোধ- এই তিনের সংমিশ্রণ ঘটলে যে বিশ্ব জয় করা সম্ভব, তারই তাজা প্রমাণ দিলেন প্রজ্ঞা পারমিতা রহমান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খ্যাতনামা প্রকৌশল সংস্থা ASHRAE-র আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা তিনের তালিকায় জায়গা করে নিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরেছেন এই তরুণী।

বিশ্বমঞ্চের এই বর্ণিল সাফল্যের সুবাদে মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ 'সিআরসি আন্তর্জাতিক সম্মেলন'-এ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্রে ভূষিত করা হয়।


আন্তর্জাতিক এই অর্জনের নেপথ্যে রয়েছে প্রজ্ঞার দীর্ঘদিনের একাগ্রতা এবং তাঁর মা সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহারের সার্বিক দিকনির্দেশনা। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সন্তানকে একজন পূর্ণাঙ্গ 'অল-রাউন্ডার' হিসেবে গড়ে তুলতে মায়ের এই ভূমিকা আজ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

কঠিন বিশ্বমঞ্চে অনন্য সাফল্য

প্রতিযোগিতার বাছাই প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার উদীয়মান প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থী এতে আবেদন করেন। নিখুঁত নথিপত্র মূল্যায়ন এবং কয়েক ধাপের কঠিন ভাইভা শেষে বিচারকমণ্ডলী বিশ্বজুড়ে মাত্র তিনজনকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করেন।

গৌরবজনক বিষয় হলো, নির্বাচিত এই তিনজনের মধ্যে দুজনই বাংলাদেশের সন্তান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রজ্ঞা পারমিতা রহমান এবং তাঁরই সহপাঠী আফতাব। অন্য বিজয়ী শিক্ষার্থী দুবাইয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের। বিশ্বসেরা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আয়োজক সংস্থা ASHRAE প্রজ্ঞার ভ্রমণ, আবাসনসহ সব ধরনের ব্যয়ভার বহন করে।

ছোটবেলা থেকেই মেধার স্বাক্ষর

সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান প্রজ্ঞার বুয়েট পর্যন্ত পৌঁছানোর পথটি শৈশব থেকেই উজ্জ্বল। সাতক্ষীরা কিন্ডারগার্টেন, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ প্রতিটি বিদ্যাপীঠেই তিনি মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি জেলায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনের সাফল্য ছিল তাঁর। সে শুধু শ্রেণীকক্ষেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না প্রজ্ঞা। পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তিনি ছিলেন সমানে পারদর্শী:

জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি, জাতীয় শিশু পুরস্কারসহ ৪-৫টি জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননা অর্জন।

বিতর্ক অঙ্গন: সাতক্ষীরা বিতর্ক দলের অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২১ সালে বিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তাঁর দল চ্যাম্পিয়ন হয় এবং তিনি টানা ৭টি ম্যাচে 'শ্রেষ্ঠ বক্তা'র শিরোপা জেতেন।

এছাড়া সে সামাজিক ও গণমাধ্যম কাজ: চ্যানেল আই-এর 'স্বর্ণকিশোরী' উদ্যোগের খুলনা বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন এবং দীর্ঘদিন বিডিনিউজ২৪ ডটকমের 'হ্যালো'র শিশু সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রজ্ঞা বুয়েটের যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগের ৪র্থ বর্ষে অধ্যয়নের পাশাপাশি 'বুয়েট অটোমোবাইল ক্লাব'-এর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

সাফল্যের পেছনে শক্ত পারিবারিক ভিত

প্রজ্ঞার এই পথচলায় পরিবার বরাবরই অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর বাবা আলহাজ্জ মো. সাহিদুর রহমান সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের খুলনা শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।

মেয়ের বিশ্বজয়ে গভীর আবেগ প্রকাশ করে মা নাজমুন নাহার বলেন, "প্রজ্ঞা শুধু আমার একার সন্তান নয়, সে পুরো সাতক্ষীরা ও বাংলাদেশের গৌরব। ছোটবেলা থেকেই ওর মেধার লালন ও বিকাশে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সে যেন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উঁচুতে তুলে ধরতে পারে এবং ভবিষ্যতে দেশের সেবায় নিজেকে নিবেদিত করতে পারে এজন্য সবার কাছে দোয়া চাই।"

মেধা, নিষ্ঠা ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে কীভাবে একজন তরুণী আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, প্রজ্ঞা পারমিতা রহমান আজ বাংলাদেশের কোটি তরুণ-তরুণীর জন্য সেই অনুপ্রেরণার নাম।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

জনগণের উন্নয়ন ও রাজপথের সংগ্রামে যুবদল-ছাত্রদলই মূল শক্তি: আব্দুর...

পরের সংবাদ

৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।