জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেওয়ার দায়ে ছয় ফরাসি নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ইরাকের একটি আদালত। একই মামলায় আরেক ফরাসি নাগরিককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আদালতকক্ষে উপস্থিত রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী এ তথ্য জানিয়েছেন।
দণ্ডিত ব্যক্তিরা সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন আটককেন্দ্রে থাকা আইএসের ৪৭ ফরাসি সন্দেহভাজনের মধ্যে ছিলেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও ইরাকি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বৃহত্তর স্থানান্তর ব্যবস্থার আওতায় তাদের ইরাকে নেওয়া হয়।
বিচারক জানান, আইএসে যোগদান এবং আতঙ্ক ছড়ানোর দায়ে ইরাকের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। আসামিরা বয়সে তরুণ হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রয়টার্সের ওই প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য অনুযায়ী, সাজাপ্রাপ্ত সপ্তম ফরাসি নাগরিকের বয়স ২৩ বছর। তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আসামিদের আইনজীবীদের একজন আব্বাস আল-মালিকি জানিয়েছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা ইরাকের সর্বোচ্চ আপিল আদালতে আপিল করবেন। গত মাসে ফরাসি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু হয়।
২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয় আইএস। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ও স্থানীয় বাহিনীর অভিযানে ২০১৯ সালে গোষ্ঠীটির ঘোষিত খেলাফতের পতন ঘটে। এরপর সংগঠনটির বহু সদস্যকে আটক করা হলেও এর অবশিষ্ট অংশ এখনো বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী কয়েকটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর আটককেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র জানুয়ারিতে জানায়, সিরিয়া থেকে আইএসের বন্দিদের ইরাকে স্থানান্তর শুরু হয়েছে।