যশোরের শার্শায় এক জমি বারবার বিক্রিকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের ৪ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে দূর্বৃত্বরা। এ সময় বাড়ি ঘর ভাংচুরসহ ৫ ভরি সোনার গহনা, একটি বিদেশী মোবাইল ও নগদ ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা লুটপাট করেছে তারা।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দুপুরের দিকে শার্শার সোনানদীয়া গ্রামে। আহতদের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন সোনা নদীয়া গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে বিদেশ প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম (৪৮), তার স্ত্রী জোহরা খাতুন (৪০), ছেলে উজ্বল হোসেন (২৫) ও উজ্বলের স্ত্রী জুঁই খাতুন (২০)। পরিবারের স্বজনেরা ৯৯৯ এ ফোন দিলে তাৎক্ষনিক শার্শা থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে আহতদেরকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আহত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি গত ২০১৮ সালে সোনা নদীয়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে তহিদুলের নিকট থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে বসত ভিটার ২.৭৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেই থেকে জাহাঙ্গীর আলম তার ক্রয়কৃত জমি ভোগ দখল করে আসছে।
বিক্রিত ঐ জমির সামনে থেকে তহিদুল গোপনে ০৭৫ শতাংশ জমি গ্রামের এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী আসমা বেগমের কাছে আবারো বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে জাহাঙ্গীর আলম জমির মালিক তহিদুলের কাছে এক জমি দুইবার বিক্রির প্রতিবাদ করলে সে জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যার হুমকি দেয়।
এরপর বুধবার দুপুরের সময় পরিকল্পিত ভাবে গ্রামের এক পুলিশ কর্মকর্তার ছোট ভাই সোনা নদীয়া গ্রামের মৃত আয়নাল হকের ছেলে আসাদুজ্জামান ও মকবুল হোসেনের ছেলে তহিদুল এর নির্দেশে সোনা নদীয়া গ্রামের ইয়ানুর রহমানের ছেলে রনি আহম্মদ (৩০), নাসিরের ছেলে সজিব হোসেন (৩০), ইসমাইল হোসেনের ছেলে টুটুল হোসেন (৩৫), শাকিল হোসেন (২৮), মহিদুলের ছেলে নূরনবী (২০), কওছার আলীর ছেলে তপু হোসেন (২৭), মৃত মহিনূরের ছেলে মিন্নু হোসেন (৩০) ও তহিদুলের ছেলে সামাউল (২০) সহ আরও ১০/১২ জন দূর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র, রামদা, হাতুড়ি, মোটর সাইকেলের ডাম্পার নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় হামলাকারীরা জাহাঙ্গীর আলম, তার স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের বৌকে হাতুড়ি পেটা ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পর তার পরিবারের স্বজনেরা ৯৯৯ এ ফোন দিলে শার্শা থানার পুলিশ তাদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রনি হোসেন সব সময় অস্ত্র বহন করে। তার বিরুদ্ধে শার্শা থানায় একাধিক মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে নূরনবী সোনা নদীয়া ভাটার মোড়ে মাদকের ব্যবসা করে বলে জানান তারা।
এ ব্যাপারে আহত উজ্বল হোসেন জানান, তার পিতা দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় ছিল। তার পিতা জাহাঙ্গীর আলম বিদেশ থেকে তার মা ও তার স্ত্রীর জন নিয়ে আসা ৫ ভরি সোনার গহনা, বাড়িতে থাকা নগদ ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ও একটি বিদেশী মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়।
দূর্বৃত্তরা তাদের বাড়ি ঘর, আসবাবপত্র ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। ঠেকাতে আসলে প্রতিবেশি তাইজুল ডাক্তারের বাড়িও ভাংচুর করেছে। তারা দূর্বৃত্তদের ভয়ে পরিবারের সবাই এখন জীবনের ভয়ে বাড়ি ছাড়া।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শার্শা থানার ওসি শামিনুল হক জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ভাবে পুলিশ ঘটনা স্থলে যায়। সেখান থেকে আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগি মামলা করলে তা তদন্ত করে অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।