মূল সংবাদে যান
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেই অনুমোদন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স-মিল চালাচ্ছেন মিল মালিক

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
নেই অনুমোদন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স-মিল চালাচ্ছেন মিল মালিক

প্রতিষ্ঠান চালানোর অনুমোদন নেই। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা বাজারে স-মিল চালাচ্ছেন আব্দুস সালাম। সীমান্তবর্তী এই বাজারটি ভারতের মেঘালয় সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন গাছ কেটে ওই স-মিলে সরবরাহ করেন চোরাকারবারিরা।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জে বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের ছাড়পত্র কিংবা লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে আব্দুস সালামের করাতকল বা স-মিল পরিচালিত হয়ে আসছে।

মঙ্গলকাটা বাজারে অবস্থিত এই মিলের অনুমোদন না থাকায় সম্প্রতি স-মিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রশাসন।

মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মিল মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মিল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও আইন অমান্য করে মিলটিতে কাঠ চেরাইয়ের কাজ চলছে।

স্থানীয় ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা বাজারের পাশে অবস্থিত করাতকলটির মালিক আব্দুস সালাম। তিনি প্রতিদিন লাখ টাকার গাছ চেরাই করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের ২৪ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পালের নেতৃত্বে ওই প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় বন বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলকাটা বাজারে লাইসেন্সবিহীন করাতকলে কাঠ চেরাইয়ের অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মিল মালিক আব্দুস সালামকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একই সঙ্গে যতদিন পর্যন্ত বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ না করবেন, ততদিন করাতকল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু মিল মালিক আব্দুস সালাম মোবাইল কোর্টের নির্দেশনা এক সপ্তাহ পালন করলেও গত আগস্ট মাস থেকে প্রশাসনের অনুমতিপত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই পুনরায় কাঠ চেরাইয়ের কাজ শুরু করেছেন।

মঙ্গলকাটা গ্রামের মো. রফিক মিয়ার ছেলে স-মিল মালিক আব্দুস সালাম প্রভাব খাটিয়ে স্বগর্বে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, মিল মালিক আব্দুস সালামের সঙ্গে চোরাকারবারিদের যোগসাজশ থাকায় চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা মেহগনি, শিলকড়ই, আকাশমণিসহ বিভিন্ন জাতের কাঠের গাছ এনে স-মিলে রাখেন। এখনো মিলের চারদিকে শত শত গাছ রাখা আছে বলে জানান তারা।

অনুমতিপত্র ছাড়াই আব্দুস সালাম আবারও পুরোদমে কাঠ চেরাইয়ের কাজ শুরু করায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মিল মালিক ও তিনজন শ্রমিক কাঠ চেরাইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকলেও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে মিল মালিক আব্দুস সালাম সেখান থেকে সরে পড়েন। একই সঙ্গে শ্রমিকরা মিলে কাঠ চেরাই বন্ধ করে দেন।

অন্যদিকে, রাস্তার পাশে মিলটি স্থাপন করায় সাধারণ পথচারী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ধুলাবালি ও শব্দদূষণে অতিষ্ঠ হলেও তারাও যেন নিরুপায়।

এ ব্যাপারে মিল মালিক আব্দুস সালাম মুঠোফোনে মিল চালু রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “মোবাইল কোর্টের পরও অবৈধভাবে কাঠ চেরাইয়ের কাজ করছেন।”

সামনাসামনি এসে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা আপনারা রিপোর্ট করেন আর বলেন মালিককে পাওয়া যায়নি। যা পারেন লিখেন আমার বিরুদ্ধে।”

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন (ডিআর) ওই করাতকলে (স-মিলে) মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আমরা আগামী তিন-চার দিনের মধ্যেই স-মিলটির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে করাতকলটি সিলগালা করার ঘোষণা দেব।”

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল বলেন, “এই করাতকলের বিরুদ্ধে লাইসেন্স না থাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছিল এবং বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত মিল চালানো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু এরপরও যখন অবৈধভাবে মিল চালানোর হচ্ছে, আমরা খুব শিগগিরই মিলের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করব।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, চলতি মাসে প্রাণ গেল ৫২ জনের

পরের সংবাদ

ভারতে আড়াই'শ মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ দিল বিজেপি

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।