সাতক্ষীরার কালিন্দী নদী সীমান্তে প্রতিকূল আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে ১০-১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশ-ইন করার চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
তবে, প্রবল বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও দৃঢ় অবস্থানেরমুখে তাদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিজিবির নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ খুরমী বিওপির দক্ষিণ দিকে আনুমানিক ৩.৫ কিলোমিটার দূরে কালিন্দী নদীর মধ্যবর্তী চর এলাকা 'বাঁশঝাড়িয়া মিনি ফরেস্ট' এ ঘটনাটি ঘটে।
বিজিবিও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতের৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর সাহেবখালী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা একটি কান্ট্রি বোটও একটি স্পিড বোটেকরে ১০-১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে।
কালিন্দী নদীর দুর্গম চরাঞ্চল ও বর্ষার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে তারানদী পেরিয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে এসব লোককে নামিয়ে দেওয়ার অপকৌশল নেয়।
তবেখুরমী বিওপির বিজিবি টহলদলের নজরে বিষয়টি আসা মাত্রই তারা দ্রুত স্পিড বোট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অনুপ্রবেশে সরাসরি বাধা প্রদান করে। কালিন্দী নদীর বুকে বিজিবির তাৎক্ষণিক মহড়া ও কঠোর টহলের মুখে বিএসএফ তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়।
পরবর্তীতে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১০-১২ জন ব্যক্তিকে সীমান্ত থেকে ফেরত নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যেতে বাধ্য হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের (১৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ বলেন, “দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ১৭ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। কোনো অবস্থাতেই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবেনা।”
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও প্রচলিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা লঙ্ঘন করে যেকোনো ধরনেরপুশ-ইনের অপচেষ্টা বিজিবি কঠোরভাবে প্রতিহত করছে।
সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও অপারেশনাল কার্যক্রম বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে যাতে এই ধরনের সুযোগ কেউ নিতে নাপারে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি বিজিবির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।