ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও সরাইল এলাকায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন ও জনদুর্ভোগ ঠেকাতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (আশুগঞ্জ ও সরাইল) আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন।
নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন, কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদী তীরবর্তী এলাকা ঝুঁকিতে পড়ছে। একই সঙ্গে কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আশুগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে স্থানীয়দের আন্দোলনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
নাদিয়া পাঠান পাপন অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য নদীভাঙন ঠেকানো, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি সুরক্ষিত রাখা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরবর্তী এলাকার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এরই মধ্যে সরাইল ও আশুগঞ্জের মেঘনা নদীর বিভিন্ন অংশে বালু উত্তোলন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় অবৈধ ড্রেজার ও বালু উত্তোলন পয়েন্ট চিহ্নিত করে দ্রুত বন্ধ করা, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়মিত প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নাদিয়া পাঠান পাপন আরও বলেন, সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ পাবে না। নদী, কৃষিজমি ও জনবসতি রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নদীভাঙন ও পরিবেশের ক্ষতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।