মূল সংবাদে যান
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যেভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য বদলে দেবে চীনের নতুন জলপথ

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
যেভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য বদলে দেবে চীনের নতুন জলপথ

দক্ষিণ চীন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পণ্য পরিবহনের দূরত্ব কমাতে চালু হয়েছে দেশটির প্রথম আধুনিক নৌখাল পিংলু ক্যানাল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আরও সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে বুধবার খালটি চালু হয়েছে।

চীনের দক্ষিণের অঞ্চল গুয়াংসিতে ১৩৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই জলপথটি অবস্থিত। এটি শিজিয়াং নদীকে বেইবু উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বেইবু উপসাগর টনকিন উপসাগরের উত্তর-পশ্চিম অংশ। এটি দক্ষিণ চীন ও উত্তর ভিয়েতনামের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত।

এর ফলে ইউনান ও গুইঝৌসহ দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের বড় একটি অঞ্চল সমুদ্র ও এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে পণ্য পাঠানোর জন্য আরও ছোট পথ পাবে।

কমিউনিস্ট চীন প্রতিষ্ঠার পর নির্মিত এ ধরনের প্রথম খাল এটি। খালটি ‘নিউ ইন্টারন্যাশনাল ল্যান্ড-সী ট্রেড করিডরের’ অংশ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ চীনের প্রদেশগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

এটি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভেরও অংশ। এই উদ্যোগের আওতায় মহাসড়ক, বন্দর ও রেলপথের নেটওয়ার্ক গড়ে চীনকে ইউরোপ ও আফ্রিকার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পিংলু খাল ব্যবহারে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পণ্য পরিবহনের দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার কমবে। একইসঙ্গে ১৮ থেকে ৩০ শতাংশ পরিবহন খরচ পর্যন্ত কমতে পারে। শুধু পরিবহন খরচেই বছরে ৫০০ কোটি ইউয়ানের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৭০ কোটি ডলার সাশ্রয় হতে পারে।

খালটি দিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টন ধারণক্ষমতার জাহাজ চলাচল করতে পারবে। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় সাত হাজার ২৭০ কোটি ইউয়ান, যা প্রায় এক হাজার ৮০ কোটি ডলারের সমান।

এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের উপকূল থেকে দূরের শহর ও শিল্পাঞ্চলগুলো সমুদ্রপথের আরও কাছে চলে আসবে। এসব অঞ্চল থেকে বেইবু উপসাগরের বন্দরে পণ্য যাবে। সেখান থেকে তা আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাবে।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দুই পক্ষের বাণিজ্য প্রায় চার দশমিক ৩৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাণিজ্য বেড়েছে ১৮ দশমিক ২ শতাংশ।

খালের দক্ষিণ প্রান্তে বেইবু গালফ বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতাও বেড়েছে। ২০১৭ সালে বন্দরের সক্ষমতা ছিল ২২ লাখ ৮০ হাজার টিইইউ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক কোটি ৬ লাখ টিইইউতে।

বন্দরটির নৌপথের নেটওয়ার্ক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান বন্দরগুলোর সঙ্গে যুক্ত।

গুয়াংসি ‘পিংলু ক্যানাল ইকোনমিক বেল্ট’ গড়ে তোলার কাজও করছে চীন। নতুন এই করিডরের পাশে শিল্পাঞ্চল স্থাপন ও বন্দর ও পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এগুলোকে সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করাই করিডরটির লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

বেক্সিমকোর ৪ প্রতিষ্ঠানের বোর্ড থেকে সরে যাচ্ছে সালমান এফ রহমান

পরের সংবাদ

বিএনপি কর্মী হত্যার দায়ে হাসিনা-জয়সহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।