উয়েফা নেশনস লিগে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে ফ্রান্স। সোমবার তারা বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে। ম্যাচের নায়ক মাইকেল ওলিসে। তিনি বদলি হিসেবে নেমে খেলার ছবি বদলে দেন। এটি কোচ জিনেদিন জিদানের প্রথম হোম জয়।
প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল বেলজিয়াম। স্তাদ দ্য ফ্রান্সে প্রথমার্ধেই গোল করেন দোদি লুকেবাকিও। এতে ৪৫ বছর পর ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে প্রথম জয়ের স্বপ্ন দেখছিল তারা। কিন্তু শেষ ১৩ মিনিটে ম্যাচের চেহারা পাল্টে যায়।
ফ্রান্স এই সময়ে চারটি গোল করে। এতে জিদানের অপরাজিত থাকার ধারা বজায় থাকে। দলটি কোয়ার্টার ফাইনালের আরও কাছে চলে গেছে।
৭৭ মিনিটে সমতা আনেন দেজিরে দুয়ে। বক্সের কিনারা থেকে তিনি নিচু শটে গোল করেন। চার মিনিট পর ওলিসের পাস থেকে গোল করেন রায়ান শেরকি। এতে ফ্রান্স এগিয়ে যায়। এরপর ওলিসে নিজে তৃতীয় গোলটি করেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে অতিরিক্ত সময়ে তিনি আরও একটি গোল করেন।
ফ্রান্স গত সপ্তাহে ব্রাসেলসেও বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল। সেই ম্যাচেও শেষ দিকে গোল করেছিলেন ওলিসে। এখন গ্রুপ এ১-এ ফ্রান্স ইতালির চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে আছে। বেলজিয়াম আরও এক পয়েন্ট পেছনে। ইতালি বলোনায় তুরস্ককে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। তুরস্কের এটি টানা চতুর্থ হার।
এই দুই সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতির শেষ ম্যাচে জিদান দলে বড় রদবদল করেন। আগের একাদশ থেকে ১০টি পরিবর্তন আনেন। শুধু উসমান দেম্বেলে নিজের জায়গা ধরে রাখেন। দেম্বেলে এই ম্যাচেও অধিনায়ক ছিলেন। চোটের কারণে কিলিয়ান এমবাপ্পে খেলতে পারেননি।
এই ম্যাচে দুজনের জাতীয় দলে অভিষেক হয়। তারা হলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লেনি ইয়োরো এবং তুলুসের গোলরক্ষক গিয়োম রেস্তেস। বেলজিয়ামও দুজনকে পায়নি। নিষেধাজ্ঞার কারণে কেভিন ডি ব্রুইনা ও ইউরি টিয়েলেমান্স খেলতে পারেননি।
প্রথম গোলটি হয় রোমিও লাভিয়ার দারুণ পাস থেকে। তার পাসে ফ্রান্সের রক্ষণ খুলে যায়। লুকেবাকিও একা ছুটে গিয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন।
বেলজিয়ামের হয়ে অভিষেক ম্যাচে গোলরক্ষক মার্টেন ফান্দেভুর্ট দারুণ খেলেন। তিনি এস্তেবান লেপলের শট ঠেকান। শেরকির শটও তিনি ফিরিয়ে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আর পেরে ওঠেননি।
দুয়ে বল নিয়ে ঘুরে শট নেন। বেলজিয়ামের গোলরক্ষক বল ধরতে পারেননি। এতে ফ্রান্স সমতা পায়। এরপর ওলিসের কাটব্যাক থেকে শেরকি গোল করেন।
শেষ দিকে বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গারই ম্যাচ মাতিয়ে রাখেন। ৮৮ মিনিটে ওলিসে ঝামেলার মধ্যে বল জালে পাঠান। এরপর দুয়ের দক্ষ কাজের পর চতুর্থ গোলটি করেন। এভাবেই ফ্রান্স অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচটা জিতে নেয়।