তেল ও গ্যাস আমদানির ঋণপত্রের (এলসি) দায় মেটাতে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ বাড়ায় আন্তঃব্যাংক লেনদেনে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২৪ টাকার কাছাকাছি উঠেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগের ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বেড়ে ডলারের গড় বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা। আমদানি দায় মেটানোর চাপে একদিনে রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, মূলত তেল ও গ্যাস আমদানির অর্থ পরিশোধের চাপ বাড়ায় ডলারের দর বেড়েছে। ডলার প্রতি বিক্রির দর ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা এবং কেনার দর ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে। একদিন আগেও এ দর ছিল যথাক্রমে ১২৪ টাকা ২৮ পয়সা ও ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা।
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে ডলার প্রতি বিক্রির দর ছিল ১২৪ টাকা ২০ পয়সা। কেনার দর ছিল ১২২ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে। এক সপ্তাহ আগেও ডলারের দর উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, বাজারে ডলারের প্রবাহ ও চাহিদা মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ রয়েছে। তবে মাসের শেষ দিকে সাধারণত আমদানি দায় পরিশোধের চাপ বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে বিনিময় হারে। এ সময় প্রবাসী আয় আসার গতিও সাধারণত কমে যায়। এতে বাজারে সাময়িকভাবে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয় বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। শুধু পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে ২৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে দেশের আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে।
তবে ডলারের বাজারে ওঠানামা থাকলেও দেশের রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপিএম ৬ পদ্ধতির হিসাব অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর মোট রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার।
এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার। এদিকে খোলাবাজারেও ডলারের দাম বেড়েছে। অধিকাংশ মানি এক্সচেঞ্জে প্রতি ডলার ১২৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেনার দর ছিল ১২৭ থেকে ১২৭ টাকা ৫০ পয়সা।