মূল সংবাদে যান
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদেশিদের জন্য অভিবাসন নীতি কঠোর করছে জাপান

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
বিদেশিদের জন্য অভিবাসন নীতি কঠোর করছে জাপান

সম্প্রতি জাপানকে বিদেশি পর্যটকদের কাছে একটি দারুণ জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত করেছে তাদের প্রশান্ত জেন বাগান, ভবিষ্যৎমুখী আধুনিক নগরী এবং বৈচিত্র্যময় সুস্বাদু খাবারের আয়োজনের পাশাপাশি ইয়েনের সুবিধাজনক বিনিময় হার।

দেশটির নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা ও উন্নত অবকাঠামোর কারণে চাকরি ও পড়াশোনাসহ দীর্ঘমেয়াদে থাকার উদ্দেশ্যে আসা মানুষের সংখ্যাও গত বছর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

তবে সম্প্রতি সরকারের নেওয়া বেশ কিছু কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে জাপানকে যারা নিজেদের 'দ্বিতীয় বাসস্থান' বানিয়েছেন, তাদের মনে এখন সংশয় জাগছে।

জাপানের ইতিহাসে সব সময়ই কঠোর অভিবাসন নীতি এবং একক জাতিভিত্তিক জনসংখ্যার আধিপত্য ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক তীব্র জনমিতিক সংকট মোকাবেলায় দেশটি ধীরে ধীরে বিদেশি কর্মী গ্রহণ ও পর্যটক আকর্ষণে তাদের দুয়ার উন্মুক্ত করতে শুরু করেছিল।

অতিরিক্ত পর্যটকদের চাপ এবং স্থানীয় নিয়মকানুন অমান্য করার মতো কিছু ঘটনা যার কিছু সত্যি আর কিছু ভুল বোঝাবুঝি সম্প্রতি "জাপান-ফার্স্ট" রাজনীতির উত্থানকে উসকে দিয়েছে। এর ফলে একটি অপেক্ষাকৃত উন্মুক্ত, বৈচিত্র্যময় ও অতিথিপরায়ণ সমাজ হয়ে ওঠার যে ধারা তৈরি হয়েছিল, তা নতুন মোড় নিয়েছে।

গত মাসে রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন জাপান সরকার জানায়, অক্টোবর মাস থেকে বেশ কিছু ভিসা ফি বাড়ানো হবে। যা বিদেশিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা একের পর এক কঠোর পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সর্বশেষ।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য আগের চেয়ে ২০ গুণ বেশি অর্থাৎ ২ লাখ ইয়েন (প্রায় ১,২৫৭ মার্কিন ডলার) গুনতে হবে।

ফি বাড়ানোর কারণ হিসেবে বিচারমন্ত্রী হিরোশি হিরাগুচি বলেন, এর লক্ষ্য হলো 'একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে বিদেশি ও জাপানি নাগরিকরা একসঙ্গে বাস করতে পারেন।'

তবে সরকারের এমন বক্তব্য বিদেশি বাসিন্দাদের মনে এই দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে, নবাগতদের জন্য আরও কঠোর নীতির সূচনা হতে যাচ্ছে কি না।

কিছু মানুষের কাছে জাপান ইতোমধ্যেই কর্মসংস্থানের গন্তব্য হিসেবে তার আকর্ষণ হারাচ্ছিল, কারণ মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের মান বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর ওপর এখন যুক্ত হয়েছে ভিসার খরচ নিয়ে চিন্তা এবং নানা অনিশ্চয়তা, যা অনেককে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

এক্স এ একজন বিদেশি শিক্ষার্থী লিখেছেন, 'একজন সদ্য পাস করা গ্র্যাজুয়েট হিসেবে এই ধরনের খরচ বহন করা আমার পক্ষে অসম্ভব হতো। এমনকি এখনও আমি কোনোমতে দিন চালাচ্ছি।'

তিনি আরও লেখেন, 'আগামী ১০ বছর পরের জাপানি বাজারের কথা চিন্তা করলে আমার মন থেকে সত্যিই মনে হয় পরিস্থিতি বড় ধরণের বিপদের দিকে এগোচ্ছে।'

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

ঢাকা-জামালপুর বাস চলাচল বন্ধ

পরের সংবাদ

আবারও মাসভিত্তিক ভ্যাট পরিশোধের ব্যবস্থায় ফিরছে এনবিআর

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।

রাজনীতি

সব সংবাদ