মূল সংবাদে যান
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধর্ষণের পর বিয়ে করে পালানো সেই ডিবি কর্মকর্তার দুই বছরের শাস্তি

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
ধর্ষণের পর বিয়ে করে পালানো সেই ডিবি কর্মকর্তার দুই বছরের শাস্তি

বিয়ের আশ্বাসে এক নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক ও একসঙ্গে বসবাস এবং পরবর্তীতে বিয়ে করেও স্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা না দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার খান মাহমুদুল হাসানকে দুই বছরের জন্য বেতনবৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ২০১৮ এর আওতায় তাকে ‘অসদাচরণ’ এর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় তাকে ‘০২ (দুই) বছরের জন্য বেতনবৃদ্ধি স্থগিত’ সূচক লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সময়ে তিনি কোনো বকেয়া প্রাপ্য হবেন না এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খান মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে ২০২০ সালে জাকিয়া পারভীন নামে এক নারীর পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালে মাহমুদুল হাসান সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে চাকরিতে যোগদানের পরও তাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকে।

মাহমুদুল হাসানের দেওয়া বিয়ের আশ্বাসে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাকিয়া পারভীন ঢাকায় এসে একটি মেসে বসবাস শুরু করেন। মাহমুদুল ঢাকার বাইরে কর্মরত থাকলেও ছুটিতে ঢাকায় এসে বিভিন্ন হোটেলে ওই নারীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো অবস্থান করতেন।

এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাজধানীর চকবাজার এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।

প্রজ্ঞাপনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ে না করায় জাকিয়া পারভীন ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই চকবাজার থানায় মামলা করার উদ্যোগ নেন। একই দিনে মাহমুদুল হাসান তাকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর তিনি স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনযাপন করেননি এবং স্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা দেননি বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে বনিবনা না হওয়া, প্রতারণা এবং মাহমুদুল হাসানের আগের বিয়ে ও সন্তানের বিষয় গোপন রাখার অভিযোগ তুলে ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর তাকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাকিয়া পারভীনকে আগে থেকেই বিবাহিতা হিসেবে জানা সত্ত্বেও তাকে বিয়ের আগে বিভিন্ন হোটেল ও ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রীর মতো অবস্থান এবং পরবর্তীতে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিয়ে করেও যথাযথ স্ত্রীর মর্যাদা না দেওয়ার অভিযোগকে একজন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তার জন্য শৃঙ্খলা পরিপন্থী, নৈতিক স্খলন ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এ কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

গত ২৮ জুন বিভাগীয় মামলা রুজু করে তাকে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী দেওয়া হয় এবং কারণ দর্শাতে বলা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা গত ২২ জুলাই অভিযোগের জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। পরে গত ২ সেপ্টেম্বর তার ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি শেষে অভিযুক্ত ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, অভিযোগের জবাব, অভিযোগের গুরুত্ব এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তাকে লঘুদণ্ড দেওয়া সমীচীন বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

কলকাতায় হোটেলে অভিযান, বিপাকে বাংলাদেশি রোগীরা

পরের সংবাদ

সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।