মূল সংবাদে যান
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

দরপত্রে শিথিল হচ্ছে যোগ্যতার শর্ত, সুযোগ পাবেন নতুনরা

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
দরপত্রে শিথিল হচ্ছে যোগ্যতার শর্ত, সুযোগ পাবেন নতুনরা

সরকারি উন্নয়নকাজের দরপত্রে অংশ নিতে বড় অঙ্কের টার্নওভার, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা এমন জটিল শর্তের কাছে নতজানু হয়ে পড়ে নতুন ও ছোট ঠিকাদাররা। এবার সেই বাধা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সংশোধিত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অধ্যাদেশ, ২০২৬ এ যোগ্যতার শর্ত শিথিল, সুযোগবঞ্চিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে।

সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, নতুন নিবন্ধিত ব্যক্তি ও নবীন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ অপ্রয়োজনীয়ভাবে সীমিত করে এমন যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা যাবে না।

আবার শুধু দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা, উচ্চ বার্ষিক টার্নওভার, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা কিংবা একটি বড় চুক্তি সম্পাদনের অভিজ্ঞতাকেও বাধ্যতামূলক যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে না।

এছাড়া নতুন দরপত্রদাতা, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র ঠিকাদার, নারী দরপত্রদাতা এবং সুযোগবঞ্চিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার যোগ্যতার শর্ত শিথিল করতে পারবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জুনায়েদ সাকি বলেন, ‘আপনি কি অধ্যাদেশটি দেখেছেন? অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে বলা আছে, যারা বঞ্চিত হয়েছেন, বিশেষ করে যাদের বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও গত ২০ বছরে কোনো ক্রয়প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি বা নেননি, তারা যেন এখন এসে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজ করতে পারেন, সেই নিশ্চয়তা আইনে রাখা হয়েছে। এরপর বিধিমালা তৈরি হবে এবং সেখানে এসব বিষয় আরও স্পষ্ট করা হবে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার সুযোগ যেন অদক্ষ ঠিকাদারকে অযাচিত সুবিধা না দেয়, আবার অভিজ্ঞতার অজুহাতে নতুন ও সক্ষম উদ্যোক্তারাও যেন বাদ না পড়েন দুই দিকেই নজর রাখতে হবে।

তবে বিপিপিএর সাবেক সচিব ফারুক হোসেন বলেন, ‘যেমন, মাঠপর্যায়ে এলটিএম পদ্ধতিতে কাজ দেয়া হয়, সেটি পুরোপুরি প্রতিযোগিতামূলক নয়। সেখানে কিছুটা কারসাজির মাধ্যমে অনেককেই কাজ দেয়া সম্ভব। তাই মাঠপর্যায়ে ছোট ছোট ঠিকাদারদের কাজ পাওয়ার একটি সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু সামগ্রিকভাবে যদি আমরা সংশোধনীর পর সংশোধনী এনে সেটিকে নিজেদের কাজ পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে তৈরি করে ফেলি, তাহলে যুক্তিটা এমন দাঁড়ায় যে, ‘আমরা গত ১৭ বছর কাজ পাইনি, তাই এখন কাজ পেতে হবে। আমরা গত ২০ বছর কাজ পাইনি, তাই এখন কাজ পেতে হবে।’

আমাদের রাজনীতিবিদদের মধ্যে এ ধরনের কথাবার্তা এখন রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। তবে বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সরকারি কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট কাজের কারিগরি দক্ষতা, আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তবায়নের সামর্থ্যও যাচাই করতে হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না জানালেন ইশরাক

পরের সংবাদ

এক গ্রাম ইউরেনিয়ামও ইরান থেকে সরানো হবে না: রেজায়ি

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।