দুবাইয়ে জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ড্রাইভিং লাইসেন্সের চাহিদাও। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে আমিরাতটিতে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ১৮৮টি ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করেছে দুবাইয়ের সড়ক ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ।
আরটিএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যার মধ্যে ৯৬ হাজার ৪০০টি সম্পূর্ণ নতুন লাইসেন্স। বাকি ২২ হাজার ৭৮৮টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে অনুমোদিত কয়েকটি দেশের লাইসেন্সধারীদের, যারা নিজেদের লাইসেন্স সংযুক্ত আরব আমিরাতের লাইসেন্সে রূপান্তর করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি চালক পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। সম্প্রতি দুটি পৃথক কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে চালক নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আরটিএ বলছে, চালকদের দক্ষতা মূল্যায়ন আরও নির্ভুল করতে স্মার্ট প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ক্রমেই বাড়াচ্ছে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক সড়ক নিরাপত্তার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনুমোদিত ড্রাইভিং ইনস্টিটিউটগুলোর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নিয়মিত হালনাগাদ করছে আরটিএ। প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ডিফেন্সিভ ও প্রিভেন্টিভ ড্রাইভিংয়ে।
অর্থাৎ, সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা, আকস্মিক পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা শেখানো হয় শিক্ষার্থীদের।
এ ছাড়া উন্নত ড্রাইভিং সিমুলেটরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা রাস্তায় নামার আগেই বৃষ্টি, কুয়াশা কিংবা জরুরি পরিস্থিতির মতো নানা চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে গাড়ি চালানোর অনুশীলন করতে পারছেন।
চালকদের মূল্যায়ন আরও নির্ভুল ও নিরপেক্ষ করতে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্যামেরা ও স্মার্ট সেন্সর ব্যবহার করছে আরটিএ। নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পরীক্ষার্থীর দক্ষতা এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ফলে ফলাফল হচ্ছে আরও স্বচ্ছ ও অভিন্ন। লাইসেন্স পাওয়ার আগে একজন চালক প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মান পূরণ করেছেন কি না, তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হচ্ছে এই ব্যবস্থা।
লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তাত্ত্বিক ক্লাসে শেখানো হয় ট্রাফিক আইন, গতিসীমা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং পথচারীদের অধিকারের মতো বিষয়।
পাশাপাশি মোবাইল ফোন ব্যবহারের মতো মনোযোগ বিচ্ছিন্নকারী আচরণের ঝুঁকি, সঠিক লেন ব্যবহার এবং ট্রাফিক সংকেত ও সড়কচিহ্ন সম্পর্কেও সচেতন করা হয় শিক্ষার্থীদের।
আরটিএর লক্ষ্য শুধু গাড়ি চালাতে সক্ষম চালক তৈরি করা নয়, বরং অন্য সড়ক ব্যবহারকারীদের প্রতি দায়িত্বশীল ও সচেতন চালক গড়ে তোলা।
অনুমোদিত ড্রাইভিং প্রশিক্ষকদের ওপর নজরদারিও জোরদার করেছে আরটিএ। তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে চালু রয়েছে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন। জ্ঞান পরীক্ষা, স্মার্ট ইয়ার্ড ও সড়ক পরীক্ষার ফলাফল এবং গ্রাহক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে সেরা প্রশিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতিও দেওয়া হয়।
দুবাই পুলিশ ও ড্রাইভিং ইনস্টিটিউটগুলোর যৌথ সহযোগিতায় পরিচালিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য প্রশিক্ষণের মান বাড়ানো এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করা।
দুবাইয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় ট্রাফিক ফাইল খোলার মাধ্যমে। এরপর চোখের পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা অংশ নেন থিওরি ক্লাস ও জ্ঞান পরীক্ষায়। পরের ধাপে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে শেখানো হয় গাড়ি চালানোর মৌলিক দক্ষতা, প্রতিরোধমূলক ড্রাইভিং, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় এবং পার্কিং।
অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও পার্কিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর মেলে আরটিএর চূড়ান্ত সড়ক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ। সেই পরীক্ষায় পাস করলেই মেলে দুবাইয়ের ড্রাইভিং লাইসেন্স।