জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ বাড়ানো, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে জার্মানি। একই সঙ্গে দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন জেন-জি প্রজন্মের তরুণেরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) জার্মানির ৩৪টি শহরে প্রায় এক লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তরুণদের সংগঠন ‘জেন-জি রেগেল্ট’ দেশজুড়ে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল।
তবে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, বেশির ভাগ শহরেই বিক্ষোভকারীর সংখ্যা আয়োজকদের প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল।
সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের (ডিডব্লিউ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে ছিল উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানো এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি ও নতুন করে সেনা নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।
তাদের আশঙ্কা, এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করা হচ্ছে। বিক্ষোভে কেউ কেউ চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের পদত্যাগের দাবিতে ব্যানারও বহন করেন।
দিনের বেলা বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল। বার্লিনে পুলিশের হিসাবে, ব্রান্ডেনবুর্গ গেটে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হন। তবে আয়োজকদের দাবি, সেখানে অংশ নিয়েছিলেন ১০ হাজার মানুষ। হামবুর্গে বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৬ হাজার ৭০০ জন।
তবে সন্ধ্যা নামার পর কয়েকটি শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় ফ্রাঙ্কফুর্টে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দোকানের কাচ ভাঙচুর করে, বিপণিবিতান ও কেনাকাটার এলাকায় লুটপাট চালায় এবং পুলিশের দিকে মলোটভ ককটেল ছোড়ে।
এ ঘটনায় প্রায় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব হামলার জন্য প্রায় ১০০ জন বামপন্থি উগ্রবাদীকে দায়ী করেছেন।
কোলন ক্যাথেড্রালের কাছে প্রায় ২০০ জন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও সাইকেল ছুড়ে মারেন।
বার্লিনে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত পৃথক একটি সমাবেশও ভেঙে দেয় পুলিশ। সেখানে পাথর নিক্ষেপে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা সামান্য আহত হন। এ ছাড়া ৫৬ জন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়। হামবুর্গ, ব্রেমেন ও বন শহরেও অস্থিরতার খবর পাওয়া গেছে।
পুলিশ ইউনিয়নের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেন-জি বিক্ষোভকে সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, সংঘর্ষের পেছনে ছিল মুখোশধারী কিছু ব্যক্তি, যাঁরা বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে আলাদাভাবে সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন।
জার্মানির এই বিক্ষোভ ইউরোপজুড়ে তরুণদের নেতৃত্বে চলা আন্দোলনের অংশ। এর সূচনা ফ্রান্সের ছাত্র বিক্ষোভ থেকে।
শিক্ষা গবেষক নিনা কোলেক সতর্ক করে বলেছেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে তাঁরা পপুলিস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন।