ইয়েমেনের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে বেসামরিক নাগরিক ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিষাক্ত পদার্থযুক্ত গোলা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে হুতিদের বিরুদ্ধে। এতে কয়েকজনের বিষক্রিয়া ও শ্বাসরোধের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তদন্তের কথা জানিয়েছে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় বলেছে, তাইজের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহারের অভিযোগসংক্রান্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ব্যবহৃত পদার্থের প্রকৃতি নির্ধারণ, এর প্রভাব নথিভুক্ত করা এবং এসব পদার্থ সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে জরুরি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, তাইজে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহারের এ অভিযোগ সামনে এসেছে। সেখানে স্নাইপার হামলা, আবাসিক এলাকায় নির্বিচার গোলাবর্ষণ এবং সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটছে। এসব অবরোধের কারণে পানি, খাদ্য, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে মন্ত্রণালয়।
বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা কিংবা যুদ্ধের নিষিদ্ধ পদ্ধতি ব্যবহারের বিরুদ্ধে হুতিদের সতর্ক করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। তারা বলেছে, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাইজের অবরোধ ভেঙে দেওয়া রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব। সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। হুতিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে সহযোগিতা এবং বেসামরিক নাগরিকদের কাছে বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে বলেছে তারা। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ সড়কগুলো খুলে দিতে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের কমান্ডারদের জবাবদিহির বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে তাইজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতপূর্ণ এলাকা।
কৌশলগত অবস্থানের কারণে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী ও হুতি যোদ্ধাদের মধ্যে লড়াই চলছে। ২০১৫ সাল থেকে তাইজের বিভিন্ন অংশে অবস্থান ধরে রেখেছে হুতিরা। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বিধিনিষেধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মানবিক সংকটও বিরাজ করছে।