বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবাসী বাংলাদেশি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
সভায় ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা বলেন, ‘প্রবাসীবান্ধব সরকারের নীতির অংশ হিসেবে দূতাবাস ধারাবাহিকভাবে কনস্যুলার সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘গত ৩ জুন থেকে চালু হওয়া অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা পাসপোর্টসেবায় স্বচ্ছতা বাড়াবে, সময় সাশ্রয় করবে এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাবে।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। এতে প্রবাসীদের মধ্যে অযথা উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। তিনি এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।’
বিজ্ঞাপন
সভায় অংশ নেওয়া প্রবাসীরা কনস্যুলার সেবা নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। দূতাবাস তাদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সেবার মান আরও উন্নত করার আশ্বাস দেয়।
দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহ জামাল, দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা এবং জুনেদ আহমদ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি), প্রথম সচিব শেখ মারেফাত তারিকুল ইসলাম, মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিলসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে দূতাবাস কয়েকটি বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমের ঘোষণা দেয়। এতে বলা হয়, ফ্রান্স সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বৈধতার (রেগুলারাইজেশন) আবেদন করতে ফরাসি প্রিফেকচার অফিস থেকে যারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছেন, তাদের পাসপোর্টসেবা নিশ্চিত করতে আগামী ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট ও ২২ আগস্ট (শনিবার) বিশেষ কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। ওই তিন দিনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই সারাদিন পাসপোর্টসংক্রান্ত সেবা মিলবে।
এ ছাড়া ১৬ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের নতুন স্লট উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রতিদিনের মোট অ্যাপয়েন্টমেন্টের অর্ধেক অনলাইন আবেদনকারীদের জন্য এবং বাকি অর্ধেক ১৫ মে–এর আগে ই-মেইলে আবেদনকারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলে জানানো হয়।
সভায় অংশ নেওয়া প্রবাসীরা দূতাবাসের এসব উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। তাদের আশা, নতুন ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতা ও অপেক্ষার সময় কমবে এবং কনস্যুলার সেবার প্রতি প্রবাসীদের আস্থা আরও বাড়বে।
দূতাবাসও আশা প্রকাশ করেছে, নতুন উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে এবং সরকারের প্রবাসীবান্ধব কার্যক্রমের সুফল তারা সরাসরি পাবেন।