রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন এ কথা পাগলেও বিশ্বাস করে না। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সার্বজনীন কালীবাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে রাশেদ বলেন, জামায়াতের অধিকাংশ সংসদ সদস্য কখনও রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আশীর্বাদ ও ওয়েলফেয়ার মেকানিজমের তত্ত্ব অনুসরণ করে তারা সংসদ সদস্য হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন।
এ কারণে রাজপথের বক্তব্যে তারা অভ্যস্ত নন এবং সংসদে কিংবা রাজপথে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রায়ই খেই হারিয়ে ফেলছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার সম্পর্কে জামায়াতের আমিরের বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে মানুষ হাসি-তামাশা করছে। গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন ছিল, জামায়াত তা ধারণ করতে পারছে না।
ফ্যাসিবাদের আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে ভাষায় বক্তব্য দেওয়া হতো, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধেও জামায়াত প্রায় একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে।
রাশেদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিরোধীদলীয় নেতাদের বক্তব্য অনুসরণ করতে গিয়ে জামায়াত নেতারা খেই হারিয়ে ফেলছেন বলে তার ধারণা।
শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে গিয়ে ‘পালিয়ে যাবেন’, ‘লুঙ্গি থাকবে না’, ‘হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখুন’ কিংবা ‘আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে’ এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে নিজেদের হাসির পাত্র না করার জন্য জামায়াত নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি ক্ষমতায় না থাকলে আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলবে মন্তব্য করে রাশেদ খান বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় না থাকলে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে শকুনের মতো ঠুকরে ঠুকরে ছিঁড়ে খাবে।