ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে জার্মানিতে বৈঠক করেছেন ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিশরের সামরিক প্রধানেরা।
গত সপ্তাহে একটি নির্জন স্কি রিসোর্টে ওই বৈঠক হয় বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, বৈঠকটির আয়োজন করেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। সেন্টকমও বৈঠকটি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর এটি এ ধরনের প্রথম বৈঠক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর আগে একই কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের বৈঠক হয়েছে।
বৈঠকে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির বিভিন্ন ফ্রন্টে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) অভিযান নিয়ে অন্য সামরিক কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।
অ্যাক্সিওসকে সূত্র জানিয়েছে, ব্র্যাড কুপার বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের বলেন, ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলো আক্রান্ত হলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হবে না।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক চলাচল বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাও তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন। ইরান ওই জলপথ অবরোধ এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজে হামলা শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, জার্মানিতে নির্ধারিত একটি সম্মেলনে তারা আটটি দেশের জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। নেতারা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এদিকে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলা ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে তাদের অগ্রসর হওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবকে সহায়তার উপায় নিয়েও ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি।
তবে ওই সূত্রের ভাষ্য, এ ক্ষেত্রে ইসরায়েল কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নেবে এমন সম্ভাবনা কম।
মঙ্গলবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমও জানিয়েছিল, হুথিদের হামলা নিয়ে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে যোগাযোগে সেন্টকম মধ্যস্থতা করছে।
জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক নিয়ে টাইমস অব ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি।