একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে আল-কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেন যেসব দেশে সন্ত্রাসী হামলার ছক কষেছিলেন, সেসব দেশের তালিকায় নাম রয়েছে ভারতসহ আরও আট দেশের।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
৯/১১ হামলার বিন লাদেনসংক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ৭০টিরও বেশি গোপন গোয়েন্দা ব্রিফিং জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে। সেগুলোতে ১০০ পৃষ্ঠারও বেশি নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও জর্জ ডব্লিউ বুশের মেয়াদে ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের মেয়াদের সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে এসব নথিতে।
প্রকাশিত নথির অন্তর্ভুক্ত ১৯৯৮ সালের ২৮ আগস্ট তারিখের প্রেসিডেন্টের এক সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে, ওসামা বিন লাদেন ভারতসহ বিশ্বের একাধিক দেশে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালানোর নীলনকশা তৈরি করেছিলেন।
সেই স্মারকলিপিতে উল্লিখিত অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- পাকিস্তান, মিশর, কুয়েত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, উগান্ডা এবং নাইজেরিয়া।
‘বিন লাদেন সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এখনও একটি হুমকি’ শীর্ষক নথিতে সুরক্ষার স্বার্থে তথ্যের উৎস প্রকাশ করা হয়নি। এতে সুনির্দিষ্ট কোনো ভারতীয় স্থাপনা বা লক্ষ্যবস্তু, নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনার উল্লেখ করা হয়নি।
তবে বিশ্লেষণে জানানো হয়, ভারতসহ বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক স্বার্থে আঘাত হানার সুনির্দিষ্ট ‘মানসিকতা’ ছিল লাদেনের আল-কায়েদার।
নথি অনুযায়ী, আফগানিস্তানে আল-কায়েদার ঘাটি লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর বিন লাদেন ও অন্যান্য সন্ত্রাসী নেতাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অক্ষত ছিল। তারা আফগান শিবিরের কিছু প্রশিক্ষণ পুনরায় চালু করেছিল এবং অন্যত্র স্থানান্তর প্রক্রিয়া বজায় রেখেছিল।
আল-কায়েদা প্রধান তৎকালীন সময়ে হামলা বাস্তবায়নে বিশ্বের অন্তত ৬০টি দেশের ব্যক্তি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ককে সক্রিয় করার সক্ষমতা রাখতেন।
সিআইএ তাদের অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব গোপন ব্রিফিং প্রকাশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকারতম অধ্যায় এবং সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে অভূতপূর্ব স্বচ্ছতা তৈরি হলো।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ১৯ জন সদস্য চারটি বিমান ছিনতাই করে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।