লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে ইয়েমেন ও জিবুতির মাঝখানে সরু জলপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহনে বিকল্প জলপথ হিসেবে এর বিশেষ গুরুত্ব ছিল। কিন্তু সেই পথও এখন হুতিদের নিয়ন্ত্রণে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেব দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিচ্ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট খুলতে তারা এই তৎপরতা চালিয়েছে। এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে সপ্তম মাসে গড়িয়েছে।
এএফপির সংবাদে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার বাব আল–মানদেব প্রণালির পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুতিরা। তারা বন্দরনগর মোখা দখল করেছে।
ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তাদের দাবি, নৌপথটির মাঝখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
বাব আল-মানদেব দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে নিকটবর্তী হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছিল।
এর মধ্যে শনিবার আল–জাজিরার সংবাদে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
এদিকে, ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর সৌদি আরব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। আরও হামলা যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে ইরাকি কর্তৃপক্ষকে সময় দিচ্ছে সৌদি আরব। সে জন্য তারা আপাতত সংযত আছে।
সম্প্রতি সৌদি আরব এই পথ দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। বাব আল-মানদেব দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ কমে যেতে পারে।
তেল পরিবহনে তখন ঘুরপথ পথ বেছে নিতে হবে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ—দুটোই বাড়বে। ক্রমবর্ধমান জাহাজভাড়া ও মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়বে।
জ্বালানি বাজার বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রোঞ্জ বলেন, ‘বাব আল-মানদেব এত দিন বাণিজ্যের প্রাণ ভোমরার মতো ছিল। এই পথ হারানোর আশঙ্কা থেকে বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি কতটা অস্থিতিশীল।’