জাপানে চলমান এশিয়ান গেমসে আবাসনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক আগে থেকেই সমালোচনা চলছে। যদিও এতদিন আবাসন নিয়ে সমস্যা ছিল না বাংলাদেশি অ্যাথলেটদের। তবে (মঙ্গলবার) এসে বাংলাদেশের আরচ্যাররা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর রায়হান জানিয়েছেন, ‘আমাদের দল ওয়েলকাম সেন্টারে অপেক্ষা করেছে ১০ ঘণ্টা। এত অপেক্ষার পর যখন আবাসনের জন্য নেওয়া হয়, তখন দেখা যায় রুম সংকট। ১৪ জনের জন্য মাত্র চারটি রুম।
এর মধ্যে আবার সিঙ্গেল রুম আছে। এরপর দুুই জন কর্মকর্তাকে আলাদা হোটেলে থাকতে হয়েছে। রাতেও সকালে ঠিকমতো খাবার পায়নি খেলোয়াড়রা, ঘুমাতেও পারেনি। বাথরুমেও পানি জমেছিল।’
কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পরও বিষয়টি সুরাহা করা যায়নি বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ, ‘আবাসন কমিটির প্রধান আরচ্যারি ১৬ জনের জন্য ৭ রুম বরাদ্দ। এক রুমে তিন জন থাকবে। এটা অনুমোদিত থাকলেও তারা দুই জনকে সেখানে থাকতে দেবে না। অনেক আলোচনার পর কয়েক ঘণ্টা কেটে যায়। শেষ পর্যন্ত দুই জনকে অন্য হোটেলে নিতে হয়েছে।’
কর্মকর্তা বাদে ১৪ জন আরচ্যার ও কোচ নিয়েও সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশ। আরচ্যারির জন্য সাত রুমের পরিবর্তে চার রুম দিয়েছে আয়োজকরা। আরচ্যারি দলের সমস্যা থাকায় বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস দলের ম্যানেজার ও কোচ রুম ছেড়ে দেন আরচ্যারি কোচের জন্য।
ক্রুজে বাংলাদেশের জন্য ৩১ রুম বরাদ্দ। ৩১ রুমে বাংলাদেশের সাত ডিসিপ্লিনে ৭৯ জনের থাকার কথা। ৩১ ডাবল রুমের পাশাপাশি কিছু রুমে সোফাও রয়েছে, যা বেড হিসেবে ব্যবহারের জন্য স্বীকৃত।
গেমসে সাধারণত খেলা শুরুর আগে শেফ দ্য মিশন কিংবা জেনারেল টিম ম্যানেজারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও কেন ভোগান্তি?
বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের প্রধান ইমরোজের উত্তর, ‘বরাদ্দ থাকলেও সেভাবে রুম বুঝিয়ে দেয়নি। কাবাডির ৩০ জনের জন্য ১২ রুম দিয়েছিল। যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। পরবর্তীতে তাদের রুম বাড়িয়ে দেয়। আরচ্যারির জন্য যেটা বরাদ্দ সেটা না দেওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়।’
জাপানে আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা তো আছেই, পাশাপাশি বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দূরদর্শিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে আরচ্যারি দলের ভোগান্তিতে।
মঙ্গলবার রাতভর আলোচনার পর বুধবার সকালেও সমাধানের চেষ্টা করছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। এই সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ আরচ্যারি দল সকালে অনুশীলন করেছে।