সাত সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন দামের কাছাকাছিই রয়েছে স্বর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও কিছুদিন বেশি রাখতে পারে এমন আশঙ্কায় স্বর্ণের দামে চাপ রয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩০ দশমিক ৫৮ ডলারে উঠেছে।
এর আগে সোমবার গত ৫ আগস্টের পর সর্বনিম্ন দামে নেমেছিল স্বর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে ভবিষ্যৎ সরবরাহের জন্য স্বর্ণের চুক্তির দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৬২ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষক তাহির বলেন, স্বর্ণের দামের ওপর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির বড় প্রভাব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে তেল ও সুদের হার আরও বাড়তে পারে। এতে স্বর্ণের ওপর চাপ বাড়বে। অন্যদিকে উত্তেজনা কমলে স্বর্ণের ওপর চাপও কমতে পারে।
এদিকে সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন বলে দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকায় টানা দ্বিতীয় কার্যদিবসের মতো তেলের দামও বেড়েছে।
তেলের দাম বাড়লে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার খরচ বেড়ে যায়। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে পারে। সুদের হার বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ, স্বর্ণ থেকে সুদ পাওয়া যায় না।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের বৈঠকে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা এখন ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগে এই সম্ভাবনা ছিল ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
ফেডের গভর্নর লিসা কুক বলেছেন, আগামী কয়েক মাসেও মূল্যস্ফীতির চাপ থাকতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বাড়তি চাহিদা ও তেলের উচ্চ দাম এর কারণ হতে পারে। তবে আরও সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থা, চাকরির শূন্য পদ, বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান, ব্যক্তিগত ভোগব্যয় এবং কৃষিখাতের বাইরে কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশ হবে। এসব তথ্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
বাজার বিশ্লেষক তাহির বলেন, মূল্যস্ফীতি বেশি থাকা এবং অর্থনীতি শক্তিশালী থাকলে ফেড সুদের হার আরও কিছুদিন বেশি রাখতে পারে। এতে স্বর্ণের দাম আরও কমার ঝুঁকি তৈরি হবে।
এদিকে রুপার দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৪২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৭১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২০৫ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।