জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়েছেন এক দুর্বৃত্ত। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর মগবাজারে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে গুলি ছোড়ার পর একই অটোরিকশায় চড়ে মালিবাগের দিকে পালিয়ে যান তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজে হামলার এ চিত্র ধরা পড়লেও ঘাতকের পরিচয় এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। কী কারণে এ হামলা, তা নিয়েও অন্ধকারে তদন্তকারীরা।
শনিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভবনটির তৃতীয় তলায় একটি স্টুডিওতে ছিলেন আসিফ আকবর। তার গাড়িতে তখন চালকসহ কেউ ছিলেন না।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মগবাজার মোড় থেকে মালিবাগের দিকে যাওয়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিশাল সেন্টারের সামনে থামে। এরপর এক ব্যক্তি নেমে গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।
পরে দ্রুত অটোরিকশায় উঠে মালিবাগের দিকে পালিয়ে যান তিনি।অটোরিকশাটিতে আর কেউ ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, হামলাকারী গাড়ির চালকের পেছনের আসন লক্ষ্য করে গুলি করেন। এতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীর চেহারা স্পষ্ট নয়। সেখানে কেবল তাঁর পা দেখা যাচ্ছে।
হামলাকারীকে শনাক্ত করতে বিশাল সেন্টার ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ঘটনার সময় আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়িটি বিশাল সেন্টারের সামনের ফুটপাতে পার্ক করা ছিল। গুলির শব্দ শুনে কাছাকাছি থাকা এক নিরাপত্তাকর্মী সেখানে ছুটে আসেন। গাড়িতে গুলির চিহ্ন দেখতে পেয়ে তিনি বিষয়টি আসিফ আকবরকে জানান।
পরে স্টুডিও থেকে নিচে নেমে গাড়ির অবস্থা দেখেন আসিফ আকবর। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন তিনি।
খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আসিফ আকবর ও তার এক বন্ধুর উপস্থিতিতে গাড়ির পেছনের জানালা খুলে ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এটি পরিকল্পিত হামলা কি না, সে বিষয়েও তদন্তের ফল সামনে আসেনি।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, আশপাশের ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ এবং হামলাকারীর পরিচয় শনাক্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।