মূল সংবাদে যান
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সদের চমক

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সদের চমক

ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ভারতকে হারিয়ে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স।

শারজাহতে উত্তেজনায় ঠাসা এই ম্যাচে শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটারদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন বাংলাদেশের বোলাররা। পাওয়ার প্লেতেই তুলে নেন প্রতিপক্ষের টপ অর্ডার। শেষ দিকে ম্যাচটিতে কিছুটা নাটকীয়তার সৃষ্টি হলেও স্নায়ুচাপ ধরে রেখে অল্প পুঁজি নিয়েই জয় ছিনিয়ে নেয় টাইগাররা।

বল হাতে জয়ের নায়ক এনামুল হক জুনিয়র নেন ৪টি উইকেট। অন্য প্রান্তে বাউন্ডারিহীন এক দুর্দান্ত স্পেল উপহার দেন পেসার আবু জায়েদ রাহি।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ভারত অধিনায়ক যুবরাজ সিং। ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ, প্রথম দুই ওভারেই তুলে নেয় ৩০ রান। তবে তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ৬ বলে ১০ রান করা ইমরুল কায়েস আউট হলে ছন্দপতন ঘটে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।

একপ্রান্ত আগলে রেখে ২৫ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রনি তালুকদার। তবে ফজলে মাহমুদ রাব্বি, জহুরুল ইসলাম ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। রনির বিদায়ের পর রান তোলার গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়ে। সেই জায়গা থেকে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন অনেক দিন পর লাল-সবুজ জার্সিতে আলো ছড়ানো নাসির হোসেন ও আরাফাত সানি।

একসময় জাতীয় দলে যে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় নাসির দিতেন, সেটিরই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন চাপ সামলে। দুটি চারের সাহায্যে ২১ বলে ২৪ রানের একটি হিসেবি ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন তিনি।

পীযূষ চাওলার বলে নাসির আউট হলেও লড়াকু পুঁজি গড়ার কাজটা ততক্ষণে হয়ে গিয়েছিল। শেষ দিকে আরাফাত সানি মূল্যবান ৩৭ রান (৩৮ বলে) যোগ করলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪১ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ভারতের হয়ে পীযূষ চাওলা ৩টি এবং পবন নেগি ও ঋষি ধাওয়ান ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

১৪২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে সূচনাতেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। দলীয় চার রানেই সাজঘরে ফেরেন অম্বতি রায়ডু। এরপর স্টুয়ার্ট বিনি ও অধিনায়ক যুবরাজ সিং দ্রুত বিদায় নিলে চাপে পড়ে ভারতীয়রা।

দলীয় রান ৫৫ ছোঁয়ার আগেই বিদায় নেন রবিন উথাপ্পা ও ইউসুফ পাঠান। ম্যাচ তখন পুরোপুরি বাংলাদেশের গ্রিপে, রূপকথার এক জয়ের সুবাস পাচ্ছিল টাইগাররা।

তবে ১৮ বলে ২৪ রান করে মাঝে কিছুটা ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন ঋষি ধাওয়ান। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আঘাত হেনে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান এনামুল হক জুনিয়র।

অন্য প্রান্তে ইরফান পাঠানের ৪১ বলে ২৪ রানের ইনিংসটি ভারতের ওপর তৈরি হওয়া চাপ বিন্দুমাত্র কমাতে পারেনি। তবুও শেষ দিকে পবন নেগি ও পীযূষ চাওলার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচটা জমে উঠেছিল, জয় পেতে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয় বাংলাদেশকে।

ম্যাচ যখন হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায়, ঠিক তখনই ডেথ ওভারে নিজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দেন আবু জায়েদ রাহি। তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ভারত। আর তাতেই কাঙ্ক্ষিত জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও রুবেল হোসেনদের দল।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

ট্রাক-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু

পরের সংবাদ

অ্যানফিল্ডে সবচেয়ে বড় হার লিভারপুলের

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।