রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। উত্তর সিটির প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেছেন, ঢাকার সড়কে চলতে হলে আইন ও নির্ধারিত নিয়ম মানতে হবে, নইলে গ্রামে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে দক্ষিণের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেছেন, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য আলাদা আইন করার সুযোগ নেই এবং অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হবে না।
রাজধানীর অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক- সবখানেই এখন ব্যাটারি রিকশার দাপট। এসব যান চলাচলে নৈরাজ্য বন্ধে পুলিশ তৎপর হলে সড়কে হয়রানি বন্ধ এবং বৈদ্যুতিক চার্জিং পয়েন্টের দাবিতে আন্দোলনে নামেন চালকেরা। একপর্যায়ে তারা ঢাকা দখলের হুমকিও দেন।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা হুশিয়ারি দিচ্ছি। মাসের শেষে আমরা মহাসমাবেশ করব, বাংলাদেশ করে দেওয়া হবে।’
যদিও অটোরিকশাচালকদের এসব দাবি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।
জনগণের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার অনড় অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো গোষ্ঠীর জন্য আলাদা কোনো নিয়ম হবে না। নাগরিকদের সুযোগ সুবিধার জন্য আমরা নাগরিকদের সুযোগ সুবিধা ব্যাহত করার জন্য কিছু করছি না।
তিনি আরও বলেন, ‘তাদেরকেও একটা ডিসিপ্লিনে আসতে হবে এটা আমরা পরিষ্কার বলছি। আমরা তাদেরকে উচ্ছেদ করতে চাই না, তারাও যাতে রাস্তায় চলাচল করতে পারে সেটা একটা ব্যবস্থা আমরা রাখতে চাই।’
অন্যদিকে অটোরিকশাচালকদের আন্দোলনে কেউ সমর্থন দেয়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।
রাজধানীতে অটোরিকশা চলাচলের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার সড়কে চলতে হলে সেই নীতিমালা মেনেই চলতে হবে।
তিনি বলেছেন, ‘এটা আমরা জোন ওয়াইজ একটা তালিকা করব। চাহিদা অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা করব এবং পাশাপাশি যাতে করে একটা সংখ্যা নির্ধারণ থাকবে, এই সংখ্যার বাইরে যাতে কেউ আর সেখানে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারে এটা নীতিমালায় থাকবে।’
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় আটটি জোনে ভাগ করে অটোরিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। জোনভিত্তিক অটোরিকশার রং নির্ধারণ করা হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটি জোনে অটোরিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।