মূল সংবাদে যান
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু মানেই প্লেটলেট আতঙ্ক নয়, যে লক্ষণগুলো বাঁচাতে পারে জীবন

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
ডেঙ্গু মানেই প্লেটলেট আতঙ্ক নয়, যে লক্ষণগুলো বাঁচাতে পারে জীবন

ডাক্তার সাহেব, প্লেটলেট কত?— ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে এই প্রশ্নটি এখন প্রায় প্রতিদিনই শুনতে হয়। প্লেটলেট এক লাখ থেকে ৮০ হাজার, ৮০ থেকে ৫০ হাজারে নামলেই উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। অনেক সময় এই একটি সংখ্যার দিকে তাকিয়ে আমরা রোগীর অন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেতগুলোই ভুলে যাই।


ডেঙ্গুতে প্লেটলেট কমে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু প্লেটলেট কমেছে মানেই রোগীর অবস্থা সংকটজনক, এমন নয়। আবার প্লেটলেট খুব কম না থাকলেও গুরুতর জটিলতা হতে পারে। চিকিৎসক হিসেবে এমন রোগী দেখেছি, যার ৭৫ হাজার প্লেটলেটেও রক্তপাত হয়েছে; আবার ৫ হাজার প্লেটলেট নিয়েও কোনো দৃশ্যমান রক্তপাত হয়নি।

তাই ডেঙ্গুতে শুধু প্লেটলেট নয় বরং রোগীর সামগ্রিক অবস্থা, HCT, রক্তচাপ, পালস প্রেশার, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং রক্তপাতের লক্ষণ একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

​HCT কেন গুরুত্বপূর্ণ?

HCT বা হেমাটোকিট হলো রক্তের মোট আয়তনের কত অংশ লোহিত রক্তকণিকা দিয়ে তৈরি তার পরিমাপ।

ডেঙ্গুর গুরুতর পর্যায়ে রক্তনালির ভেতর থেকে প্লাজমা বের হয়ে যেতে পারে। ফলে রক্তের তরল অংশ কমে গিয়ে রক্ত ঘন হয় এবং HCT বাড়তে পারে। বিশেষ করে আগের রিপোর্টের তুলনায় HCT দ্রুত বাড়ার সঙ্গে যদি প্রস্রাব কমে, পালস বেড়ে যায়, রক্তচাপ কমে বা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে, তাহলে গুরুতর প্লাজমা লিকেজ ও শকের আশঙ্কা থাকে।

তবে একটি HCT রিপোর্ট দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এর পরিবর্তনের ধারা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বর কমলেই কি বিপদ কেটে যায়?

না। ডেঙ্গুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি হলো অসুস্থতার ৩ থেকে ৭ দিন, বিশেষ করে জ্বর কমার সময়।

এই সময়ে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক-মাড়ি বা অন্য কোথাও রক্তপাত, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা ঝিমুনি, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ ডেঙ্গুতে রোগীর অবস্থা অল্প সময়ের মধ্যেই বদলে যেতে পারে।

HCT কমলেই কি রোগী ভালো?

এটিও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসার পর রোগীর পালস ও রক্তচাপ ঠিক হচ্ছে, প্রস্রাব বাড়ছে এবং সামগ্রিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এমন ক্ষেত্রে HCT কমা ভালো লক্ষণ হতে পারে।

কিন্তু HCT কমার সঙ্গে যদি পালস বেড়ে যায়, রক্তচাপ কমে, হাত-পা ঠান্ডা হয় এবং প্রস্রাব কমে যায়, তাহলে শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণসহ অন্য জটিলতার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে হবে।

অর্থাৎ, HCT-এর সংখ্যা নয়, সংখ্যার সঙ্গে রোগীর অবস্থার সম্পর্কটাই আসল।

প্লেটলেট কি তাহলে দেওয়া যাবে না?

অবশ্যই প্রয়োজন হলে দেওয়া হয়। তবে শুধু প্লেটলেট কমেছে বলেই প্লেটলেট দিতেই হবে এমন নিয়ম নেই।

রোগীর রক্তপাত, সামগ্রিক অবস্থা এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত প্রয়োজন বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন। তাই নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্লেটলেট, স্যালাইন বা কোনো ওষুধ নেওয়া উচিত নয়।

বিশেষ করে তরল চিকিৎসায় সতর্কতা জরুরি। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বা ভুলভাবে স্যালাইন দেওয়াও জটিলতা তৈরি করতে পারে।

শেষ কথা

ডেঙ্গুর সময় আমরা প্রায়ই একটি সংখ্যার পেছনে ছুটি, প্লেটলেট। কিন্তু একজন রোগীর অবস্থা বোঝার জন্য দেখতে হবে আরও অনেক কিছু: HCT-এর পরিবর্তন, পালস, রক্তচাপ, প্রস্রাব, রক্তপাতের লক্ষণ এবং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা।

বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরের কয়েকটি দিন বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাই ডেঙ্গু হলে শুধু প্রশ্ন করবেন না, প্লেটলেট কত? বরং জিজ্ঞেস করুন, রোগী কেমন আছেন? কারণ ডেঙ্গুতে একটি রিপোর্টের সংখ্যা নয়, সময়মতো বিপদের লক্ষণ চিনতে পারাটাই অনেক সময় জীবন বাঁচাতে পারে।

ডা. সাহেদ ইমরান

সহকারী অধ্যাপক,

শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে: ডিএনসিসি প্রশাস...

পরের সংবাদ

কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর গ্যাং নেতা রতন গ্রেপ্তার

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।