কুমিল্লা নগরের আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ (আর স্কোয়াড)’-এর প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল শুক্রবার রাতে নগরের একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা আজ শনিবার সকালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, রতনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে নিয়ে রাতভর নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। আজ সকালেও অভিযান চলছিল। অভিযান শেষে রতনের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলন করার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ। তবে সংবাদ সম্মেলনের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় রতন গ্রুপ
ইমরান হোসেন ওরফে রতনের নেতৃত্বে নগরে আধিপত্য বিস্তার, সংঘর্ষ, অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট কুমিল্লা নগর উদ্যানের সামনের সড়কে শাহাদাত হোসেন নামের এক কিশোরকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় রতনের নাম আসে। ওই মামলায় র্যাব ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তখন র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মামলার প্রধান আসামি রতন ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান এবং হত্যাকাণ্ডের হোতা।
২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা নগরের সার্কিট হাউস মোড় এলাকায় রতন ও ইগল গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দুই পক্ষের ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।
২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল নগরের রানীর দিঘিরপাড়, তালপুকুরপাড় ও আদালতপাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন পক্ষের অস্ত্রের মহড়া হয়। পরদিন রাতে সেনাবাহিনী ও র্যাবের যৌথ অভিযানে রতনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। পাঁচ দফার অভিযানে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম চার দফায় ১ হাজার ৬৭২ জন এবং পঞ্চম দফায় ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়।
২৩ সেপ্টেম্বর একটি রাজনৈতিক মিছিলে রতনের উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে গত বুধবার কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মহসিনের সঙ্গে রতনের কথোপকথনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানার পুলিশ ও ডিবি একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী পঞ্চম দফার অভিযান চালায়। অভিযানে ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান। তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে।