বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতন্ত্রের প্রধান ও অপরিহার্য শর্ত হলো ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করা। আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অনুষঙ্গ হচ্ছে গঠনমূলক সমালোচনা ও রাজনৈতিক বিরোধিতা। তবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে দেশের বিদ্যমান গণতন্ত্রকে ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্নে’ বা আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বহু রক্তস্রোত পার করে চব্বিশের ৫ আগস্টের দেশে গণতন্ত্রের জয়যাত্রা শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই একে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, গণতন্ত্রকে রক্ষায় সরকার, গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগ-প্রত্যেককেই নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।
দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক দাবি-দাওয়া ও মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘অনেক রক্তক্ষয়ী আন্দোলন, ত্যাগ তিতিক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। জনগণ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়ে স্বস্তিতে রয়েছে। তাই যেকোনো মূল্যে আমাদেরকে এই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।’
আগামীকাল ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। এ উপলক্ষ্যে আজ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহাসচিবের দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে সরকার, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্র নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে এবং মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করার সুযোগ দেয়। তবে একদিনে বা সহজে এই গণতন্ত্র অর্জিত হয়নি। ইউরোপ কিংবা এশিয়া- সর্বত্রই স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসেও গণতন্ত্রের পথ মসৃণ ছিল না, নানা চড়াই-উতরাই ও বিপদসংকুল পথ পার হয়ে আজকের এই যাত্রায় আমরা শামিল হয়েছি।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান নাগরিক অধিকারের গ্যারান্টি দেয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে সেগুলোকে পূর্ণ সুরক্ষা দিতে এবং শক্তিশালী করতে হবে। গণমাধ্যম, পার্লামেন্ট, রাজনৈতিক দল ও আইন-আদালতের সমন্বয়েই গণতন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হতে না পারলে গণতন্ত্র কখনোই শক্তিশালী হতে পারে না।’
জাতীয় সংসদের বর্তমান পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ও ট্রেজারি বেঞ্চ যেভাবে বিরোধী দলের বক্তব্য শুনছে, তা বিগত ১৭/১৮ বছরে দেখা যায়নি। অতীতে পার্লামেন্টকে ফ্যাসিবাদ ও নিপীড়নের যন্ত্রে পরিণত করা হয়েছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে বিরোধী দল এখন প্রকাশ্যে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারছে। তবে বিরোধিতার নামে কোনো অশালীন, অমার্জিত বা ‘আন-এডিফাইং’ শব্দ ব্যবহার না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
গণতন্ত্রকে বিকশিত করতে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে মতপ্রকাশের ওপর তীব্র নিয়ন্ত্রণ ছিল।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করাই বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। দেশে বর্তমান মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে স্থায়ী রূপ দিতে বিচার বিভাগ, প্রশাসন এবং গণমাধ্যমের মতো রাষ্ট্রীয় স্তম্ভগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাখা অত্যন্ত আবশ্যক।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্বের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে নতুন বাংলাদেশে তিনি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।