মূল সংবাদে যান
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

জ্বালানি সংকটে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ চায় বিকেএমইএ

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
জ্বালানি সংকটে গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ১২ মাসে পরিশোধের সুযোগ চায় বিকেএমইএ

জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান গুলোর জন্য নিয়মিত বকেয়ার পাশাপাশি জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ)।

একই সঙ্গে সংকটকালীন বকেয়া বিলের কারণে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিকেএমইএর নারায়ণগঞ্জ জোনের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

সভায় অংশ নেওয়া শিল্পোদ্যোক্তারা জানান, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে প্রায় এক মাস ধরে অনেক কারখানার উৎপাদন বন্ধ বা ব্যাহত হয়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো।

উৎপাদন কমে গেলেও গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বহাল থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এ অবস্থায় নিয়মিত বকেয়া বিলের পাশাপাশি জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিতে সরকারের কাছে আবেদন জানান তারা।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছেন শিল্প মালিকরা। এসব সংযোগের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।

তাদের মতে, অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা গেলে গ্যাসের অপচয় কমার পাশাপাশি বৈধ গ্রাহকদের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে গ্যাস ব্যবস্থাপনায় সিস্টেম লসও কমে আসবে।

সংকটকালে গ্যাস ব্যবহারে অগ্রাধিকার নির্ধারণেরও দাবি জানান তারা। শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে গণপরিবহনে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখে ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রস্তাবও দেন তারা।

সভায় গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রেস ব্রিফিং করে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের সর্বশেষ পরিস্থিতি জনগণ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানোর আহ্বান জানান তারা।

তারা বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ঠিকভাবে করতে পারছে না। নিয়মিত সরবরাহ পরিস্থিতি জানানো হলে প্রতিষ্ঠানগুলো আগাম সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তাও কমবে।

জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্যে বিদ্যমান চাপ নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। শিল্পোদ্যোক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রপ্তানিমুখী শিল্প এমনিতেই চাপে রয়েছে।

এর মধ্যে জ্বালানি সংকট যুক্ত হওয়ায় অনেক কারখানার ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আরও কমেছে। এ অবস্থায় খেলাপি ঋণ হিসেবে ঘোষণার বর্তমান ৬ মাসের সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ মাস করার দাবি জানান তারা।

শিল্পোদ্যোক্তারা বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সাময়িক আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের নীতিগত সহায়তা জরুরি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রভাব রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক শিল্প খাতে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

সাড়ে ৬ টাকায় নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ কিনতে পারবে পিডিবি

পরের সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়মেই হবে: ড. মঈন খান

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।