ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর মিরপুর।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১সহ কয়েকটি এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের পর দুপুরে মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় গিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। এ সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন মিরপুর-১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার ও মার্কেট এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে হিমালয় গার্মেন্টস ও বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীদেরও সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, দুপুর ২টার পর শাহ আলী থানাধীন হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। পরে মিরপুর-১০ এলাকা থেকে আসা শ্রমিকদের একটি অংশ গার্মেন্টসটিতে ভাঙচুর চালায়।
একই সঙ্গে পাশের বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলে প্রায় ১২০-১৫০ শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের উত্তেজনা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে মিরপুর-১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার ও মার্কেট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর, মিরপুর-১১ ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকরা।
তারা বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে মিরপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা।
সকাল থেকে চলা অবরোধের কারণে মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। বেলা আড়াইটার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে সরে যান।
তবে সেখান থেকে সরে যাওয়ার পর শ্রমিকদের একটি অংশ মিরপুর-১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার ও মার্কেট এলাকায় গিয়ে ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়েন।