মনে হচ্ছিল, ফাইনালটা লঙ্কানদের পক্ষেই চলে গেছে। বোর্ডে ৩২৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে ১৪ রানেই পাকিস্তানের ২ উইকেট তুলে নেয় তারা। কিন্তু পাকিস্তান দলটি বরাবরই আনপ্রেডিক্টেবল। সেটি আরও একবার দেখা গেলো ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে।
লাহোরে ৩২৬ রানের লক্ষ্য ১০ বল আর ৩ উইকেট হাতে রেখে পেরিয়ে গেছে পাকিস্তান। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকরাই হয়েছে চ্যাম্পিয়ন।
বড় রান তাড়ায় শুরুতেই মাজ সাদাকাত (৫) আর ব্যাটিং স্তম্ভ বাবর আজমকে (০) হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। কিন্তু তৃতীয় উইকেটে সাদ বাইগকে নিয়ে ১৪০ বলে ১৪৯ রানের বড় জুটি গড়েন ফখর জামান।
৭৫ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন সাদ। ফখর দলকে ২২০ রান পর্যন্ত নিয়ে যান। ৯৯ বলে ১১ চার আর ৬ ছক্কায় ১২৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এই ওপেনার।
তারপর সালমান আগা (১৭) তেমন সুবিধা করতে পারেননি। ২৩০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে আবারও ম্যাচ হারানোর শঙ্কায় পড়েছিল পাকিস্তান।
কিন্তু তরুণ হাসান নেওয়াজ আর আরাফাত মিনহাস দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান সেখান থেকে। জয় থেকে মাত্র ২ রান দূরে থাকতে আউট হন মিনহাস। ৩১ বলে ৩ চার আর ৪ ছক্কায় ৬১ করে মূলত ম্যাচটা হাতে নিয়ে আসেন তিনিই।
পরের বলে ফাহিম আশরাফও আউট হয়ে গেলে সহজ জয় আরও একটু প্রলম্বিত হয়। তবে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। হাসান নেওয়াজ ৪৫ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে হারিস রউফের করা শেষ ওভারে আসে মাত্র ৪ রান। ৪৯তম ওভারে নাসিম শাহ ১৪ রান দিলেও তার আগের ৫ ওভারে মোটে ২৯ রান খরচায় ৫টি উইকেট তুলে নেয় পাকিস্তান। সবমিলিয়ে ডেথে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন পাকিস্তানি বোলাররা।
তবে কামিন্দু মেন্ডিসের সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮ উইকেটে ৩২৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় শ্রীলঙ্কা।
লাহোরে টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে সুবিধা করতে পারেনি পাকিস্তান। ওপেনিং জুটিতেই আভিষ্কা ফার্নান্ডো আর কামিন্দু মেন্ডিস তুলে নেন ৮৭ রান।
আভিষ্কা ৩৮ করেন, কুশল মেন্ডিস ফেরেন ৮ রানেই। তবে পবন রথনায়েকেকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ঝড়ো এক জুটি গড়েন কামিন্দু। ১১৯ বলে ১৪৬ রানের জুটিতেই মূলত বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় লঙ্কানরা।
১২৮ বলে ১২ চার আর ২ ছক্কায় ১৩১ রানের ইনিংস খেলেন কামিন্দু। ৬৫ বলে ৭৭ রান আসে রথনায়েকের ব্যাট থেকে।
পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, হারিস রউফ আর সালমান আগা নেন ২টি করে উইকেট।