খুলনা থেকে লংমার্চের কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের তালা উপজেলার কুমিরা বাজার মোড়ে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেছে।
আকস্মিকভাবে রাস্তার সামনে চলে আসা এক মানসিক ভারসাম্যহীন পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ওই পথচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং বাসে থাকা অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত পথচারীর নাম আব্দুল খালেক (৪৫)। তিনি তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নের কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে খুলনা থেকে লংমার্চের কর্মসূচি শেষ করে ঘোনা ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ যাত্রীদের বহনকারী একটি বাস সাতক্ষীরার দিকে ফিরছিল। পথিমধ্যে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের তালা উপজেলার কুমিরা বাজার মোড় এলাকায় পৌঁছালে আকস্মিক এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি দৌড়ে বাসের সামনে চলে আসেন।
তাকে বাঁচাতে গিয়ে চালক স্টিয়ারিংয়ে নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশে খাদে উল্টে পড়ে। এ সময় বাসের ধাক্কায় পথচারী আব্দুল খালেক ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তালা থানা পুলিশ ও তালা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চালায়।
বাসের নিচে চাপা পড়া ও ভেতরে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও আরও ৪ জন আহত যাত্রী স্থানীয় ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের নাম জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুরো পরিস্থিতি ঘুড়ে দেখেন। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সুচিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, খুলনা থেকে লংমার্চ শেষ করে আমাদের ঘোনা ইউনিয়নের একটি গাড়ি নেতাকর্মীদের নিয়ে সাতক্ষীরায় ফিরছিল। পথিমধ্যে কুমিরা বাজার মোড়ে পৌঁছালে আব্দুল খালেক নামে ওই পথচারী হঠাৎ গাড়ির সামনে চলে আসেন। তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি খাদে পড়ে যায়।
দুর্ভাগ্যবশত গাড়িটির আঘাতে ওই পথচারী নিহত হন। পরে আমরা জানতে পেরেছি যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় আমরা অত্যন্ত মর্মাহত।
নিহত আব্দুল খালেকের শ্বশুর কেরামত আলী শোকে বিহ্বল হয়ে জানান,আমার জামাই আব্দুল খালেক দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। রাতে সবার অজান্তে তিনি রাস্তায় চলে আসেন। তাকে বাঁচাতে গিয়েই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই আমার জামাই মারা যান। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এই দুর্ঘটনা ঘটেছ।
এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। বাসটি বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে এবং খাদ থেকে তোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।