মূল সংবাদে যান
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

৫৯ শতাংশ মানুষই জানেন না তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
৫৯ শতাংশ মানুষই জানেন না তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে

উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেকের শরীরে এই সমস্যা থাকলেও তারা তা বুঝতে পারেন না। ইংল্যান্ডে প্রায় ১৪ লাখ মানুষের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে প্রায় ৫৯ শতাংশই জানেন না যে তাদের এই সমস্যা রয়েছে। ফলে তারা চিকিৎসাও নিচ্ছেন না।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের গবেষকেরা ‘আওয়ার ফিউচার হেলথ’ কর্মসূচির আওতায় ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ফল পেয়েছেন। যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম স্বাস্থ্য গবেষণা উদ্যোগগুলোর একটি এই কর্মসূচি।

গবেষকেরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড ব্যবহার করে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করেছেন। এ মানদণ্ড অনুযায়ী, সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৪০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি কিংবা ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি হলে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়। যারা রক্তচাপ কমানোর ওষুধ খান, তাদেরও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার হারও বেড়েছে। ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ১৫ শতাংশের এই সমস্যা রয়েছে। ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ শতাংশে।

বয়সের পার্থক্য হিসাবের মধ্যে রেখেও দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের হার বেশি। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৪২ শতাংশ, আর নারীদের ক্ষেত্রে ২৯ শতাংশ।

চিকিৎসা নিয়েও নিয়ন্ত্রণে নেই

গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ গ্রহণকারীদের অর্ধেকের রক্তচাপও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নেই। এক বা একাধিক ওষুধ সেবন করেও তাদের রক্তচাপ ১৪০/৯০ বা তার বেশি রয়েছে।

গবেষকদের মতে, ইংল্যান্ডে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করা এবং নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নির্দেশিকা চালু থাকলেও সমস্যাটির সমাধান হয়নি।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও চিকিৎসা পরিসংখ্যানবিদ ওয়েনইউ লিউ বলেন, উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত ও চিকিৎসার বর্তমান পদ্ধতি নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি জানান, শুধু বয়স্কদের মধ্যে নয়, তরুণদের মধ্যেও এ সমস্যা উদ্বেগজনক। ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের ১৫ শতাংশের বেশি উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়মিত সুযোগ ৪০ বছর বয়স থেকে শুরু হয়। ফলে এর চেয়ে কম বয়সীদের অনেকের উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত না হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে কম বয়স থেকেই রোগটি শনাক্ত করার ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।

‘আওয়ার ফিউচার হেলথ’ কর্মসূচির উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ও চিকিৎসক ইয়ান টার্নবুল বলেন, সাধারণ চিকিৎসাসেবায়ও এমন অনেক রোগী দেখা যায়, যাদের উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত হয়নি কিংবা চিকিৎসার পরও তা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

তার মতে, শুধু রক্তচাপের মাত্রার ওপর নির্ভর না করে হৃদ্‌রোগ ও রক্তনালির রোগের ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টিও পর্যালোচনা করা উচিত।

আগাম শনাক্তকরণে জোর

ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা কর্মকর্তা অধ্যাপক ব্রায়ান উইলিয়ামস গবেষণার ফলকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্‌রোগের অন্যতম প্রধান পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি। যুক্তরাজ্যে প্রায় অর্ধেক হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের সঙ্গে এই সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে।

উইলিয়ামস বলেন, অনেক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হলেও তা জানেন না। ফলে সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরুর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং চিকিৎসার পরও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। এসব ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে বহু মানুষের প্রতিরোধযোগ্য হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক এড়ানো সম্ভব।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

দ্বিতীয় দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে আফগানিস্তান

পরের সংবাদ

সাতক্ষীরা জেলা জাসদ সভাপতি অধ্যাপক ইদ্রিস, সাধারণ সম্পাদক হেলাল

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।