স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে যাচ্ছে বরিশালের পান। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র উদ্ভাবিত পানের নতুন জাতের সফল চাষ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে অল্প পুঁজিতে অধিক লাভবান হয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন এ অঞ্চলের প্রান্তিক চাষিরা।
মাটি উপযোগী হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের বড় একটি অংশ জুড়ে একরের পর একর জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে পান চাষ। কম খরচে একবার বরজ প্রস্তুত করলে টানা ৬ থেকে ৭ বছর চাষের পাশাপাশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা পান চাষ থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন না। এর ওপর দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে পান রপ্তানি হওয়ায় বেশিরভাগ কৃষকই ঝুঁকছেন পান চাষে।
বরিশালের এক কৃষক জানান, আমার পান চাষের শুরুটা ছিল প্রথমে মাত্র ৬ শতাংশ জমি দিয়ে। সেখানে পান চাষ করে আমি লাভবান হয়েছি। এখন আরও জমি খুঁজছি। লিজ নিয়ে বড় আকারে পান চাষ করব। নতুন জমিতে বারি পান ১ ও বারি পান ২ চাষ করলে আশা করি আগের চেয়ে আরও বেশি লাভ হবে।
একই এলাকার আরেক কৃষক জানান, করিমের দেখাদেখি আমিও পান চাষ করেছি। একবার বরজ তৈরি করে দীর্ঘদিন চাষ করা যায় বলে লাভের পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়তে থাকে। আমার পান আমি বিদেশেও রপ্তানি করছি।
কৃষি গবেষকদের দাবি, বারি পান ১ ও বারি পান ২ জাতের পান যেমন অল্প জমিতে বেশি পান উৎপাদন সম্ভব, তেমনি পান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় বিদেশে রপ্তানি করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, একটা সময় পান শুধু আমাদের দেশের চাহিদা মেটাত। এখন পান কিন্তু বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। একজন নতুন কৃষক কম খরচে যেকোনো পতিত জমিতে পান চাষ শুরু করতে পারেন।
পান চাষে বেশি রাসায়নিক সার ও জৈব সারের দরকার নেই। শুধুমাত্র সরিষার তেল ভাঙানোর খৈলই জৈব সার হিসেবে যথেষ্ট। আমাদের এই পান দেশের বাইরে রপ্তানি করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ ইউরোপেও পান রপ্তানি হচ্ছে। আর পান তো মসলাজাতীয় উদ্ভিদ। পান খাওয়ার পাশাপাশি নানা মেডিসিনেও এটি ব্যবহার হচ্ছে। ফলে কৃষকরা অল্প পুঁজিতে লাভবান হচ্ছেন।
প্রতি হেক্টরে ২৮ লাখ পান পাতা উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি পান চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের নানা প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানান সংশ্লিষ্টরা।