কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) কাছ থেকে আইফোন নিতে এক সপ্তাহ আগেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
পরিকল্পনা, অপ্রতিমকে পাহাড়ে নেওয়া, আইফোন হাতে নেওয়া এবং তাকে আঘাত করার বিষয়ে তিনজনের বক্তব্যে অনেক জায়গায় মিল রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সময়ের বর্ণনায় কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।
জবানবন্দিতে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ছবি তোলা ও টিকটক তৈরি করার সূত্রে অপ্রতিমের সঙ্গে আসামিদের পরিচয় গড়ে ওঠে। আর তখনই অপ্রতিমের আইফোনের প্রতি তাদের লোভ হয়। সে অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে পরিকল্পনা শুরু করেন আসামিরা।
পরে ছবি তোলার কথা বলে ১৩ বছরের অপ্রতিমকে ডেকে নেওয়া হয় লালমাই পাহাড়ে। সেখানে প্রথমে তার হাত থেকে আইফোন ছিনিয়ে নেন আসামিরা। পরে ফোন ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পাশে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে একের পর এক আঘাত করে হত্যা করা হয় অপ্রতিমকে।
অপ্রতিম ১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান (১৬) ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তিন জবানবন্দির মধ্যে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি বিস্তারিত বলেছেন তুহিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ-ছয় মাস ধরে অপ্রতিমের সঙ্গে পরিচয়। তার বন্ধু সিয়ামের মোটরসাইকেলে করে ছবি তোলা ও টিকটক করার জন্য অপ্রতিম তাদের সঙ্গে বের হতো।
তুহিন জবানবন্দিতে বলেছেন, অপ্রতিমের আইফোনের ওপর তাদের দুজনের লোভ হয়। ‘দুজন’ বলতে তিনি ও অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোর ফাহাদের কথা বলেছেন।
তুহিনের দাবি, ঘটনার আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কিছুটা সামনে দুজনের দেখা হয়। সেখানেই আইফোন নেওয়া এবং অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত ফাহাদের জবানবন্দিতেও আগের শুক্রবারের ওই বৈঠকের কথা এসেছে। তবে ওই কিশোর পরিকল্পনার দায় মূলত তুহিনের ওপর দিয়েছে। তার বক্তব্য, ‘তুহিন আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে মারার প্ল্যান করে।’
তৃতীয় জবানবন্দিতে অপর কিশোর কামরুল বলেছে, ঘটনার দিন বিকেলে তার বন্ধুই তাকে পরিকল্পনার কথা জানায় যে, তুহিনের সঙ্গে মিলে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হবে।
অর্থাৎ, তিন জবানবন্দির একটি জায়গায় বড় মিল। সেটি হলো- হত্যার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক ছিল না। আইফোনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই পরিকল্পনা হয়েছিল বলে তিনজনের বক্তব্যে উঠে এসেছে।