মূল সংবাদে যান
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সে বড় বিক্ষোভ আহত ৫৩ পুলিশ, গ্রেপ্তার ৪৪৮ জন বিক্ষোভকারী

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
ফ্রান্সে বড় বিক্ষোভ আহত ৫৩ পুলিশ, গ্রেপ্তার ৪৪৮ জন বিক্ষোভকারী
ছবিঃ সংগৃহীত

ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ! রাস্তায় ১৬ লাখ মানুষ, গ্রেপ্তার ৪৪৮

 

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, কিন্তু সেই তুলনায় বাড়ছে না মানুষের বেতন কিংবা মজুরি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পেনশন ও মজুরি নিয়ে অসন্তোষ এবং সরকারি জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় কমানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স।

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর দেশটির বিভিন্ন শহরে রাজপথে নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ। শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষের অংশগ্রহণে দেশজুড়ে ২০০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভ ও কর্মসূচি পালিত হয়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, এবারের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ। তবে দেশটির বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার বা CGT দাবি করেছে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ লাখ ৭৩ হাজার। এর মধ্যে শুধু রাজধানী প্যারিসেই ছিলেন ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ।

অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে সরকারি হিসাব ও শ্রমিক সংগঠনের হিসাবের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও, উভয় পক্ষের তথ্যেই বিক্ষোভের ব্যাপক উপস্থিতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

মূলত গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের দাবিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

তাদের দাবির তালিকায় যুক্ত হয় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো এবং সরকারি পরিষেবাগুলোতে অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়গুলো।

বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের পাশাপাশি শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, রেলকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন।

এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ৪৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হয়েছেন এবং ৮৬টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, শ্রমিক সংগঠন CGT-এর মহাসচিব সোফি বিনে বিক্ষোভকে অত্যন্ত কার্যকর বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না মানুষের বেতন ও পেনশন।

তিনি সব শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি ফ্রান্সের ন্যূনতম মজুরি ১০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছে ফরাসি সরকার। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৯ নভেম্বর সোমবার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু প্যারিসের ম্যাটিগননে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

তবে আন্দোলনের প্রভাব ইতোমধ্যে দেশটির শিক্ষা ও পরিবহন খাতেও পড়েছে। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের ১৮৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০টিতে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চবিদ্যালয়ের কর্মীদের মধ্যে ৫২ শতাংশ বিক্ষোভ ও ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে শিক্ষক সংগঠন SNES-FSU।

প্যারিস ও বোর্দোসহ কয়েকটি শহরে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি সরাতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছে বলেও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয়, মজুরি বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতের সংকট এবং সরকারি পরিষেবার অর্থায়ন নিয়ে ফ্রান্সে চলমান অসন্তোষ নতুন করে বড় আকার ধারণ করেছে।

এখন দেখার বিষয়, আগামী ৯ নভেম্বর সরকারের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোর বৈঠকের মাধ্যমে এই সংকটের কোনো সমাধান আসে কি না, নাকি ফ্রান্সজুড়ে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়।

 

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

জীবনের সংকট কাটাতে, বরকত পেতে ১০ আমল

পরের সংবাদ

হ্যাটট্রিক হাতছাড়ার আক্ষেপ ছাপিয়ে হাসানের পাঁচ

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।