মূল সংবাদে যান
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
হুতিদের ‘অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জি৭ নেতাদের

ইয়েমেনের হুতিদের সৌদি আরবে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জি৭ভুক্ত দেশগুলো। তেহরান-সমর্থিত এই যোদ্ধারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে নতুন হুমকি তৈরি করায় মঙ্গলবার রিয়াদের প্রতি সংহতি জানিয়েছে তারা।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুতিরা আকস্মিক অভিযান চালিয়ে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে মোকাও রয়েছে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে।

রিয়াদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

হুতিদের অর্জিত অগ্রগতির ফলে ইরান ও তার মিত্ররা দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করেছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালীও রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল এবং বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানিতে এসব নৌপথের ওপর নির্ভরশীল।

কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা হুতিদের অবিলম্বে সব সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বেসামরিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হুমকি ও হামলা বন্ধ করতে এবং আন্তরিকভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যেতে হবে।’

তারা ইরানকেও ‘হুতিদের অস্ত্র সরবরাহ ও সমর্থন বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, তেহরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আগের কয়েকটি প্রস্তাব লঙ্ঘন করছে।

দরিদ্র ইয়েমেনে ২০১৪ সালে যুদ্ধ শুরু হয়। ওই বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে। ২০২২ সাল থেকে যুদ্ধ অনেকটাই স্থবির ছিল। তবে জুলাইয়ে তা আবার শুরু হয়।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব একটি জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। তাদের হস্তক্ষেপে যুদ্ধ আরও তীব্র হয়। এর ফলে সেখানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা সাবা মঙ্গলবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের হামলায় ইয়েমেনের কৌশলগত লোহিত সাগরবন্দর মোকায় অন্তত ছয়জন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।

শনিবার রিয়াদে হুতিদের হামলার পর এসব হামলা চালানো হয়। কয়েক বছরের মধ্যে সৌদি রাজধানীতে এটিই ছিল প্রথম হামলা। ইরানপন্থী যোদ্ধাদের জন্য এটি বড় ধরণের উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা।

-যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সের সমর্থন-

সোমবার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাজ্য। সৌদি যুদ্ধবিমানকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করবে যুক্তরাজ্য।

ফ্রান্সও সমর্থনের কথা জানিয়েছে। কূটনৈতিক একটি সূত্র সোমবার এএফপিকে বলেছে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু সৌদি জ্বালানি অবকাঠামোর ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে’ কাজ করতে প্রস্তুত ফ্রান্স। তবে তারা কঠোরভাবে প্রতিরক্ষামূলক পদ্ধতি’ অনুসরণ করবে। যা কোনোভাবেই হুতিদের সঙ্গে সংঘাতে অংশ নেওয়া বোঝায় না।

লোহিত সাগর উপকূলের বন্দরনগরী ইয়ানবুতে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। রিয়াদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর অপরিশোধিত তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ পথ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনও বন্ধ হয়ে গেছে।

ইয়েমেনের শাসক পরিষদের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি ইরানপন্থী যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মার্কিন সহায়তা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আলিমির কার্যালয়ের একটি সূত্র সোমবার এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রটি জানায়, ট্রাম্প সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে, রোববারের ওই ফোনালাপের উদ্দেশ্য ছিল সংকটে থাকা ইয়েমেন সরকারের প্রতি সংহতি আদায় করা করা।

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ট্রাম্পকে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুবরাজ রোববার ট্রাম্পকে ফোন করে গোষ্ঠীটির অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সহায়তার জন্য ‘আবারও অনুরোধ’ করেন। এর আগে অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, গত সপ্তাহে একই ধরনের একটি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে ফক্স নিউজ রোববার জানিয়েছে, হুতিরা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

-মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি-

হুতি আন্দোলন ‘আনসার আল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর সমর্থক’ নামেও পরিচিত। এর নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত আধ্যাত্মিক নেতা বদরেদ্দিন আল-হুতি এবং তাঁর ছেলে হুসেইনের নামে। ২০০৪ সালে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর হাতে হুসেইন নিহত হন।

হুতির আরেক ছেলে আবদুলমালিক ক্ষমতার নেতৃত্ব নেন। তিনি জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিচ্ছিন্ন একটি গোষ্ঠীকে রাজধানীর শাসক শক্তি এবং আঞ্চলিক একটি শক্তিতে পরিণত করেন।

সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে আবদুলমালিক বলেন, আগের দিন পর্যন্ত সৌদি আরব ৭৬০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘পাকিস্তান ও তুরস্কের ওপর যদি এতগুলো হামলা চালানো হতো, তাহলে কি বড় ধরণের সংকট তৈরি হতো না?’

তিনি বলেন, সৌদি আরব ‘তুর্কি ও পাকিস্তানিদের সামনে এগিয়ে দিতে এবং সিরিয়া থেকে তাকফিরিদের (ধর্মত্যাগের অভিযুক্তদের) নিয়ে আসতে চাইছে, এমন এক সময়ে যখন সিরিয়া পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে।’ তিনি দেশ দুটিকে ‘ সৌদি শত্রুর কাছ থেকে রাজনৈতিক ও আর্থিক লাভের জন্য জড়িয়ে না পড়ার’ পরামর্শ দেন।

গত মাসে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক তথাকথিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিতে তিন দেশই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে অন্যরা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ এবং তেহরান-সমর্থিত হুতিদের আঞ্চলিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, বাসে ককটেল মারছে কারা: রাশেদ খ...

পরের সংবাদ

জাতিসংঘে দেশের অবস্থান ‘জোরালোভাবে’ তুলে ধরবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।