ইঞ্জিন সংকটের কারণে টানা চতুর্থ বছর কনটেইনার পরিবহন থেকে রেলের আয় কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাত থেকে সর্বোচ্চ ১৩৫ কোটি টাকা আয় হয়েছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে আয় কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। পণ্য পরিবহনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে
ইঞ্জিন সংকটে চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল অনেকটা কমে গেছে। একসময় চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) থেকে প্রতিদিন একাধিক কনটেইনারবাহী ট্রেন ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) চলাচল করলেও এখন কোনো দিন একটি, কোনো দিন দুটি ট্রেন চলছে। অনেক সময় এক দিনেও কোনো কনটেইনারবাহী ট্রেন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে সিলেট, শ্রীমঙ্গল ও রংপুরগামী তেলবাহী ট্রেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য, গম ও সার পরিবহনকারী ট্রেনের চলাচলও ব্যাপকভাবে কমেছে। এতে একদিকে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬০১, ৬০৩, ৬০৫ ও ৬০৭ নম্বর কনটেইনারবাহী ট্রেন দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় দিনে সর্বোচ্চ চারটি ট্রেন চলাচল করত। বর্তমানে এসব ট্রেনের সংখ্যা কমে দিনে এক থেকে দুইটিতে নেমেছে। অনেক দিন কোনো ট্রেনই চলাচল করে না।
চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেন আগে সপ্তাহে দুটি চলাচল করলেও এখন মাসে একটিও নিয়মিত যাচ্ছে না। ৯৬১ নম্বর তেলবাহী ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে শ্রীমঙ্গল রুটে সপ্তাহে এক থেকে দুটি চলাচল করত। বর্তমানে মাসে মাঝে মাঝে একটি ট্রেন চলছে।
আর ৯৮১ নম্বর তেলবাহী ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে রংপুরে সপ্তাহে একটি চলাচল করলেও গত তিন মাসে মাত্র একটি ট্রেন চলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া রংপুর বিসি, দিনাজপুর বিসি ও তারাকান্দি বিসি নামে খাদ্য, গম ও সারবাহী ট্রেন এবং আশুগঞ্জ সাইলোগামী গমবাহী ট্রেনও নিয়মিত চলাচল করত। বর্তমানে ইঞ্জিন সংকটের কারণে এসব ট্রেনও প্রায় বন্ধ রয়েছে।
রেলওয়ের সাম্প্রতিক তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্যবাহী ট্রেনের চলাচল ২ হাজার ৭৭০টি থেকে কমে ১ হাজার ৪৬৭টিতে নেমেছে।
রেলওয়ের পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কনটেইনার পরিবহন থেকে আয় হয়েছে ৭৭ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৭৩ কোটি টাকার কিছু বেশি। অর্থাৎ প্রায় এক দশকের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন আয়।