ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে মোট ৪৪৯ টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় নির্ধারিত জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রথম ৮ ঘণ্টায় ৪২৩টি মামলা হয়েছিল। পরবর্তীতে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ২৬টি মামলা যুক্ত হয়ে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৪৯টিতে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক এআই ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে ১ হাজার ৪ ২৭টি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে সক্ষম।
অতিরিক্ত গতি, নির্দিষ্ট লেন না মানা, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক করা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো ও অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে।
মামলার তথ্য সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে এবং নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে জরিমানার টাকা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীতে আগে আধা-স্বয়ংক্রিয় এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা করা হলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এআই ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর আগে হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৮ আগস্ট থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন শনাক্ত ও স্বয়ংক্রিয় মামলা দেওয়াল কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রযুক্তিনির্ভর এই স্বয়ংক্রিয় নজরদারির ফলে মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, অবৈধ পার্কিং ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে এসে সড়ক শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।