মূল সংবাদে যান
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

নীরবে বাড়ে কিডনি রোগ, কী করা জরুরী

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
নীরবে বাড়ে কিডনি রোগ, কী করা জরুরী
ছবিঃ সংগৃহীত

কিডনি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়া, শরীরের তরল ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে আমাদের ছোট এই অঙ্গ।

কিন্তু কিডনি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলেও অনেক সময় আমাদের শরীরে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে সমস্যা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে অনেক সময় রোগীরা বুঝতেই পারেন না যে তাদের কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

সাধারণত দীর্ঘদিন ধরে কিডনির গঠন বা কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত থাকলে তাকে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ বা ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (সিকেডি) বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য মতে, এই রোগ কিডনির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। তবে, সময়মতো শনাক্ত করে চিকিৎসা ও জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনলে রোগের অগ্রগতি ধীর করা এবং জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

তাহলে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের কারণ কী, কোন লক্ষণগুলো খেয়াল রাখা জরুরি হবে এবং কীভাবে কিডনির যত্ন নেওয়া যায় চলুন জেনে নিই সহজ ভাষায়।

দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ আসলে কী?

আমাদের শরীরের দুটি কিডনি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়ার কাজ করে। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রক্রিয়াতেও কিডনির ভূমিকা আছে।

আর এই কিডনিই যদি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, তাহলে এর রক্ত পরিশোধনের ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে আমাদের শরীরে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত তরল জমতে শুরু করে। এতে রোগের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে রক্তে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রক্তস্বল্পতা এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

কিডনির সমস্যা তিন মাস বা তার বেশি সময় ধরে থাকলে এবং পরীক্ষায় কিডনির ক্ষতি বা কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে সাধারণত একে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ হিসেবে নির্ণয় করা হয়।

দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রধান কারণগুলো কী

কিডনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতেই পারে। চলুন এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণ জেনে নিই-

ডায়াবেটিস: রক্তে দীর্ঘদিন শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালিগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। এতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিডনির রক্ত ছেঁকে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়মিত কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা জরুরি।

উচ্চ রক্তচাপ: দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলেও কিডনির রক্তনালির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতেও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার অনেক সময় কিডনির কোনো রোগের কারণেও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগ একে অপরের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের কিডনি রোগ থাকলে কিছু মানুষের এ রোগের ঝুঁকি বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বংশগত কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

কিডনির অন্যান্য রোগ: কিডনির প্রদাহ, কিছু বংশগত রোগ, কিডনির গঠনগত সমস্যা এবং দীর্ঘদিনের মূত্রনালির বাধার মতো সমস্যাও কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

কিছু ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার: কিছু ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন বা অনুপযুক্ত মাত্রায় ব্যবহারের ফলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে আগে থেকেই কিডনির সমস্যা থাকলে ওষুধ ব্যবহারে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ব্যথানাশক বা ভেষজ ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।

দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ৭টি লক্ষণ

প্রাথমিক পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। রোগ বাড়তে থাকলে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

পা, গোড়ালি বা মুখ ফুলে যাওয়া: কিডনি শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করতে না পারলে শরীরে তরল জমতে পারে। এর ফলে পা, গোড়ালি, হাত বা মুখ ফুলে যেতে পারে।

তবে শরীর ফুলে যাওয়ার পেছনে হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ বা অন্য সমস্যাও থাকতে পারে। তাই শুধু এই লক্ষণ দেখে কিডনি রোগ নিশ্চিত করা যায় না।

প্রস্রাবের ধরন বদলে যাওয়া: আগের তুলনায় প্রস্রাবের পরিমাণ বা ঘনত্ব বদলে যাওয়া, রাতে বারবার প্রস্রাব করতে ওঠা কিংবা প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা দেওয়ার মতো পরিবর্তন খেয়াল করা দরকার।

প্রস্রাবে ফেনা হওয়ার একটি কারণ হতে পারে অতিরিক্ত প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়া। তবে সব সময় ফেনাযুক্ত প্রস্রাব মানেই কিডনির সমস্যা নয়। প্রস্রাবের পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে পরীক্ষা করানো ভালো।

সব সময় ক্লান্ত লাগা: কিডনি রোগের কারণে রক্তস্বল্পতা হতে পারে। কিডনি থেকে তৈরি হওয়া ইরিথ্রোপয়েটিন নামের হরমোন লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে এই হরমোনের উৎপাদনও কমতে পারে।

ফলে শরীরে দুর্বলতা, ক্লান্তি, মনোযোগের সমস্যা বা অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব বা বমি: কিডনির কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমতে পারে। এতে ক্ষুধা কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব বা বমির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এসব লক্ষণের অন্য অনেক কারণও আছে। তবে সমস্যা দীর্ঘদিন চললে বা এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ত্বকে চুলকানি ও শুষ্কতা: কিডনির রোগ বাড়লে শরীরে খনিজ ও বর্জ্য পদার্থের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর সঙ্গে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা চুলকানির সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।

তবে ত্বকে চুলকানি হলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন ধারণা করা ঠিক নয়। অ্যালার্জি, ত্বকের রোগসহ নানা কারণেও এ সমস্যা হতে পারে।

পেশিতে টান বা খিঁচুনি: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। এতে পেশিতে টান, খিঁচুনি বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে যদি নিয়মিত এমন সমস্যা হয় এবং এর সঙ্গে কিডনি রোগের ঝুঁকি থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

শ্বাসকষ্ট বা ঘুমের সমস্যা: শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেললে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। আবার উন্নত পর্যায়ের কিডনি রোগে ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের ঘাটতি ও অস্থিরতাও দেখা দিতে পারে।

তীব্র বা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। কেবল শ্বাসকষ্টের ভিত্তিতে কিডনি রোগ ধরে নেওয়া ঠিক নয়, কারণ এর পেছনে হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

কিডনি রোগ শনাক্ত করতে কোন পরীক্ষা করা হয়?

দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ না থাকায় ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করানো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির কার্যক্ষমতা ও ক্ষতির লক্ষণ মূল্যায়ন করা হয়।

রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা: ক্রিয়েটিনিন হলো শরীরের পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে তৈরি হওয়া একটি বর্জ্য পদার্থ। রক্তে এর মাত্রা ব্যবহার করে ইজিএফআর বা আনুমানিক গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন রেট হিসাব করা হয়। এর মাধ্যমে কিডনি কতটা ভালোভাবে রক্ত ছেঁকে নিচ্ছে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

প্রস্রাবে অ্যালবুমিন পরীক্ষা: অ্যালবুমিন রক্তের একটি প্রোটিন। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই প্রোটিন প্রস্রাবে চলে আসতে পারে। প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের পরিমাণ পরীক্ষা করে কিডনির ক্ষতির সম্ভাবনা বোঝা যায়।

প্রয়োজনে চিকিৎসক প্রস্রাবের সাধারণ পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাম এবং অন্যান্য পরীক্ষা দিতে পারেন। একটি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই সব সময় দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ নিশ্চিত করা যায় না। ফলাফল, পূর্ববর্তী রিপোর্ট এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।

কারা নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করাবেন?

নিচের ব্যক্তিদের কিডনি রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে-

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি।
উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এমন ব্যক্তি।
হৃদ্‌রোগ বা রক্তনালির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।
পরিবারে কিডনি বিকল হওয়ার ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তি।
আগে থেকে কিডনির কোনো রোগ বা অস্বাভাবিক পরীক্ষার ফল রয়েছে এমন ব্যক্তি।

ডায়াবেটিস থাকলে সাধারণত নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা প্রয়োজন। অন্য ঝুঁকির ক্ষেত্রে কত ঘন ঘন পরীক্ষা করাতে হবে, তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা উচিত।

দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের চিকিৎসা কী?

দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের কারণ, পর্যায় এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর। সব ক্ষেত্রে কিডনির ক্ষতি পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলেও সঠিক চিকিৎসায় রোগের অগ্রগতি ধীর করা এবং জটিলতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

চিকিৎসার অংশ হিসেবে থাকতে পারে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা, প্রয়োজন অনুযায়ী কিডনি সুরক্ষায় সহায়ক ওষুধ গ্রহণ, রক্তস্বল্পতা ও খনিজের ভারসাম্যহীনতার চিকিৎসা, নিয়মিত রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন।

রোগের অগ্রসর পর্যায়ে কিডনি শরীরের প্রয়োজনীয় কাজ যথেষ্টভাবে করতে না পারলে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে কিডনি রোগ নির্ণয় হলেই ডায়ালাইসিস লাগবে, এমন নয়।

কিডনি ভালো রাখতে কী করবেন?

কিডনির রোগ প্রতিরোধ এবং রোগের অগ্রগতি ধীর করতে দৈনন্দিন অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করুন। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস কিডনি ক্ষতির বড় কারণ। নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলুন।

লবণ কম খান। অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে। রান্নায় ও খাবারের সঙ্গে বাড়তি লবণ কম ব্যবহার করুন।

সুষম খাবার খান। শাকসবজি, ফল, পরিমিত প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখুন খাদ্যতালিকায়। তবে কিডনি রোগ ধরা পড়লে পটাশিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন বা তরলের পরিমাণ ব্যক্তিভেদে নিয়ন্ত্রণ করতে হতে পারে। তাই নিজে থেকে কঠোর খাদ্যনিয়ম শুরু না করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। নিয়মিত হাঁটা বা উপযোগী শারীরিক কার্যক্রম ওজন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক বা অজানা উপাদানের ভেষজ ওষুধ দীর্ঘদিন খাবেন না।

ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমান। এগুলো সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং কিডনি রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সমস্যার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

পানির প্রয়োজন ব্যক্তিভেদে নির্ধারণ করুন। সবার জন্য জোর করে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করার নিয়ম নেই। সুস্থ ব্যক্তির পানির চাহিদা এক রকম, আর কিডনি বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চাহিদা অন্য রকম হতে পারে। চিকিৎসক তরল সীমিত করতে বললে সেই নির্দেশনা মেনে চলুন।

দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তাই শুধু শরীর খারাপ লাগার অপেক্ষায় থাকলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষা করান। পা ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিবর্তন, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা অন্য কোনো সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা অবহেলা করবেন না।

সময়মতো রোগ শনাক্ত করা, নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া এবং ঝুঁকির কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখাই কিডনির কার্যক্ষমতা যতটা সম্ভব দীর্ঘদিন ভালো রাখার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকে ‘Chronic Kidney Disease’ শিরোনামে প্রকাশিত আর্টিকেলের অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন সারিকা সাইয়ারা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

লিটনের বিশ্ব রেকর্ড

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।

খেলাধুলা

সব সংবাদ