মূল সংবাদে যান
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রধান আসামীকে ধরিয়ে দিলেই ১০ লাখ টাকা পুরষ্কার

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
প্রধান আসামীকে ধরিয়ে দিলেই ১০ লাখ টাকা পুরষ্কার

সাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খাঁনকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামী কিশোর গ্যাং নেতা নাহিদ হাসানকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা পুরষ্কারের ঘোষণা করা হয়েছে।

নিহত জাকারিয়ার ফুফাতো ভাই ও সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন এই পুরষ্কারের ঘোষণা দেন।

তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখেই নিখুঁতভাবে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ফলে প্রধান আসামী নাহিদ বা অন্য কারো এই হত্যাকাণ্ডের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭ জনকে আসামী করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত জাকারিয়ার ভাই শাহারিয়ার খাঁন বাদি হয়ে শনিবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন।

পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ২ নং আসামী মুহিদ হাসান বনিকে গ্রেপ্তার করে রোববার সকালে আদালতে সোপর্দ করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত বনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হবে।

সিসিটিভি ফুটেজে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও ভয়ংকর আসামীর অতীত সম্পর্কে শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমেই আসামীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রধান আসামী কিশোর গ্যাং নেতা নাহিদ হাসান একজন পেশাদার ও দুর্ধর্ষ অপরাধী। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও একাধিক হত্যা চেষ্টা ও নৃশংস অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বকচরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোঃ রমজান আলীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা চেষ্টার প্রধান আসামীও ছিল এই নাহিদ।

এ ছাড়া চলতি বছরের ১২ এপ্রিল শহরের ফুচকা বাংলার পরিচালক আজিজুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা এবং শহরতলীর বাঁকাল ইসলামপুর চর এলাকায় এক যুবককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের ঘটনায়ও সে মূল অভিযুক্ত।

পাশাপাশি ২০২০ ও ২০২২ সালে দায়েরকৃত আরো দুটি পৃথক মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারধীন রয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত আসামীরা সকলেই শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তারা হলেন- শহরের ইটাগাছা এলাকার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে প্রধান আসামী নাহিদ হাসান, ফিরোজউদ্দিনের ছেলে মুহিদ হাসান বনি ও জাকির হোসেন রণি, সিরাজুল ইসলামের ছেলে আরিজুল ইসলাম, আবুল হোসেন বড় খোকার ছেলে ছোট ময়না, রবিউল ইসলামের ছেলে মোঃ জুয়েল, মোঃ হাসানের ছেলে সাগর, শাকিল চেয়ারম্যানের ছেলে সামি, জমিদার মুন্সির ছেলে মোঃ নাঈম, নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে রাশিদুজ্জামান রাশেদ, মোঃ মিঠুর ছেলে হুজাইফা এবং মিজানুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলাম।

কী ঘটেছিল সেদিন

২ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে শহরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানের সামনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উক্তস্থানে যুবদল ও ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে চায়ের দোকানদার রবিউল ইসলামের ভাইপো বাপ্পি হাসানের সঙ্গে আসামী নাহিদসহ কয়েকজনের কথাকাটাকাটি ও মারপিট শুরু হয়।

বাপ্পিকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আসামীরা কলেজ ছাত্র জাকারিয়াকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. শহীদুর রহমান জানান,  প্রধান আসামি নাহিদসহ পলাতক অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

নতুন দায়িত্ব পেলেন আসিফ, সারজিস ও মিতু

পরের সংবাদ

নলডাঙ্গায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।